kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ভালুকায় জনতার ওপর শিল্প পুলিশের হামলার অভিযোগ!

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের ভালুকায় শিল্প পুলিশের বিরুদ্ধে দোকানপাট ভাঙচুর ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উল্টো পথে একটি ট্রাক যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হবিরবাড়ি ইউনিয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। তবে শিল্প পুলিশের তরফ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহাসড়কের সিড স্টোর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় একটি ট্রাক উল্টো পথ ধরে যাচ্ছিল। ওই সময় ট্রাকটির গতিরোধ করেন শিল্প পুলিশের সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েক সদস্য। এ নিয়ে প্রথমে ট্রাকচালকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। তাদের সঙ্গেও শিল্প পুলিশের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শ্রমিকরা ট্রাকের চালক ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যান পাশের শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে। সেখানে যাওয়ার পর পাশের ক্যাম্পে ফোন করেন শিল্প পুলিশের সদস্যরা। ফোন পেয়ে শিল্প পুলিশের কয়েক সদস্য সেখানে গিয়ে আশপাশের দোকানে ভাঙচুর শুরু করেন। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন ভালুকা থানা পুলিশের সদস্যরা। কিন্তু শিল্প পুলিশের আরো সদস্যরা গিয়ে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। এ ঘটনায় প্রায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে তৈরি হয় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। 

স্থানীয় লোকজন জানায়, শিল্প পুলিশের হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। শতাধিক দোকানও ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায়, একপর্যায়ে সাধারণ মানুষও সড়কে নেমে আসে। তারা বিক্ষোভের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

মো. নুরুল ইসলাম নামের এক ফল ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, শিল্প পুলিশের সদস্যরা তাঁর দুটি দোকানের সব ফল ফেলে দিয়েছেন। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে তাঁর।

সাজিবুল নামের একজন জানান, তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি রোজাদার—এ কথা বলার পরও পুলিশ আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে দেখি আমার দোকানের তিন লাখ টাকা লুট হয়ে গেছে।’

স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিল্প পুলিশের হামলায় আমিসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তাঁর নামে থাকা মার্কেটে সবার আগে শিল্প পুলিশ হামলা চালায়। তিনি  বলেন, ‘পুলিশ জনতার ওপর এভাবে হামলা চালাতে পারে, কখনোই চিন্তা করিনি।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমার মার্কেটের ২০ দোকানদার আহত হয়েছে।’

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, ‘শিল্প পুলিশ অন্যায়ভাবে জনতার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেছি।’

পুলিশের এসপি শাহ মো. আবিদ হোসেন বলেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শিল্প পুলিশের এসপি সোয়েব আহমেদ জানান, ঘটনার সময় তাঁদের চার গোয়েন্দা পুলিশ ছিল। ওই ট্রাকটির চালক তাঁদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। শিল্প পুলিশ কোনো গুলি চালায়নি। উল্টো পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল এবং সাইনবোর্ড পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ কামাল বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা