kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁর রানীনগর

সেতু-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আত্রাই-রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর রানীনগরে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন তিনটি সেতুর পিলারের ভার বহনের সক্ষমতা যাচাই (পাইল লোড টেস্ট) ছাড়াই পাইল ক্যাপ, বেইস ঢালাইসহ দেয়াল নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব কাজে অনিয়মের দাবি নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

জানা গেছে, নওগাঁ সওজের আওতায় রানীনগর উপজেলা সদর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংলগ্ন নতুন করে চারটি সেতু ও ২৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। দরপত্র আহ্বানের পর এসব কাজের যৌথ দায়িত্ব পায় নাটোরের ঠিকাদার মীর হাবিবুর আলম, এম এ মিজান ও ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। চারটি সেতু ও ২৪টি কালভার্টের নির্মাণ ব্যয় ২৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

কাজের শুরুতে নির্দিষ্ট স্থানের মাটির শক্তি পরীক্ষা ছাড়াই পাইলের কাঠামো তৈরি করে পাইল (খাম্বা) নির্মাণ করা হয়। বড়-ছোট সেতুভেদে পাইলিং কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। সেগুলোর বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়; যার প্রস্তুতি নিতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। ওই ভারী বস্তুগুলো পাইলের ওপর কমপক্ষে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখতে হয়। কিন্তু এসব কাজ না করেই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

তবে নির্মাণকাজের তদারককারী কর্মকর্তা নওগাঁ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান স্বপন দাবি করেন, এখন আর ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় না। অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে আধাঘণ্টায়ই এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে যায়। ঢাকা থেকে লোকজন এসে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছে। তবে সেই অত্যাধুনিক মেশিন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাতে পারেননি। সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছ থেকে এসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সেতুসংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেক, আব্দুল আজিজ ও আব্দুর রহিম বলেন, ঠিকাদারের লোকজন দিনের বেলায় কাজ করে না। এ কারণে এখানে কী হচ্ছে, তা কারো জানার সুযোগ নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদারককারী প্রকৌশলী মো. মুনছুর আলী জানান, ঢাকার টেকনো ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন এসে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছে। অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে লোড টেস্ট করা হয়েছে। তবে ওই মেশিনের নাম কী, তা তিনিও জানেন না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ঢাকায় টেকনো অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নওগাঁ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল মুনছুর আহমেদ বলেন, ‘লোড টেস্ট না হলে আপনার কী? সেতু ভেঙে গেলে আপনার কী হবে? কার জেল-জরিমানা হবে? আমার চাকরি যাবে? কিছুই হবে না! তবে সব দায়ভার আমাদেরই। কারণ সরকার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে। বিষয়গুলো আমরাই দেখব। নির্মাণাধীন তিনটি সেতুর ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব ধরনের টেস্ট করা হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’ তবে ‘অত্যাধুনিক মেশিন’-এর নাম তিনিও বলতে পারেননি।

নওগাঁ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হামিদুল হক বলেন, ‘রানীনগরে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর সব রকমের টেস্ট করা হয়েছে। আমার দপ্তরের তদারককারী কর্মকর্তা সব সময় এসব কাজের দেখাশোনা করছেন। কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। অনেক ভালো মানের কাজ হচ্ছে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা