kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ইউএনওর মামলা দুর্নীতি ঢাকতে!

পীরগঞ্জে জমি আছে ঘর নেই প্রকল্প

রংপুর অফিস   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মে বাধা দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রতিবাদকারীদের অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম এ মমিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় এ বছর প্রথম পর্বে ২২৫টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে কাবিলপুর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী গ্রামের মৃত শাখাওয়াতের বিধবা স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও একই গ্রামের শুকুর উদ্দিনের তালাকপ্রাপ্তা মেয়ে মমেনা বেগমের নামে দুটি ঘর বরাদ্দ হয়। শিডিউল অনুযায়ী ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের টিনের ঘরে ১২টি পিলার, বারান্দায় পাঁচটি এবং ল্যাট্রিনে চারটিসহ ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউএনও তাঁর আগের কর্মস্থল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে নিয়ে আসা ৫৬ জন মিস্ত্রি-শ্রমিককে চুক্তি দেন। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার মিস্ত্রি শফিকুল ইসলাম কোনো প্রকার ঢালাই ছাড়াই পিলার স্থাপন করেন। মেঝেতে তিন ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেড় বস্তা সিমেন্ট দিয়ে মাত্র এক ইঞ্চি ঢালাই দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আহসান হাবিবসহ এলাকাবাসী বাধা দেয়। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পীরগঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গ্রামবাসী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিব বলেন, ‘মানসম্মত কাজের কথা বলায় মিস্ত্রি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে গ্রেপ্তার ও মামলার হুমকি দেয়। কিছুক্ষণ পর ইউএনওর নির্দেশে আমাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ আসে। এতে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।’

সুবিধাভোগী ফাতেমা বেগম ও মমেনা বেগম বলেন, ‘ঘর নির্মাণের শুরু থেকেই আমাদের পরিবারের সদস্যরা নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের পাশাপাশি বিনা মজুরিতে মিস্ত্রিদের জোগানদাতা হিসেবে কাজ করছে। এমনকি ঘরের মেঝেতে নিজ খরচে মাটি ভরাট করতে হয়েছে।’

কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কাজের শুরু থেকে অনিয়ম করা হচ্ছিল। তাই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বাধা দেয়। এমনকি পরিপত্রে নিজ নিজ ইউপি চেয়ারম্যানকে সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।’

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, ‘ইউএনও ফোন করে জানান, ইউপি মেম্বার আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করেছে স্থানীয় মেম্বার, সুবিধাভোগী ও এলাকাবাসী।’

দায়িত্বে নিয়োজিত মিস্ত্রি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও যেভাবে বলেছেন, আমি সেভাবেই কাজ করছি।’

চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, ফোরামের সদস্যরা গত শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্পিকারকে জানানো হবে।

ইউএনও টি এম এ মমিন বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ ঠিকঠাকভাবেই হচ্ছিল। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কাজে বাধা ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

 

 

মন্তব্য