kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

শত বাধা পেরিয়ে

দারিদ্র্য-কষ্টের মধ্যেও জিপিএ ৫ দোলনার

মামুন হোসেন সরকার, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দারিদ্র্য-কষ্টের মধ্যেও জিপিএ ৫ দোলনার

সংসারে অভাব-অনটন প্রতিদিনের সঙ্গী। বাড়ি থেকে বহুদূরের বিদ্যালয়ে যেতে হতো হেঁটে। মাঝেমধ্যে অনাহারে থাকতে হয়েছে। শত কষ্টের মধ্যেও লেখাপড়া থামায়নি দোলনা আক্তার। সংগ্রামের ফল সে পেয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা আরেফা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় সে পেয়েছে জিপিএ ৫। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

দোলনাদের বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের জমগ্রাম কামারটারী গ্রামে। তার বাবা মো. দুলাল হোসেন ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী, মা মারুফা বেগম গৃহিণী। বাবার সামান্য আয়ে চলে তাদের সংসার। চার ভাই-বোনের মধ্যে দোলনা দ্বিতীয়। তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোন বিনথী আক্তার নবম শ্রেণিতে ও ভাই মারুফুল ইসলাম পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

দোলনা বলে, ‘আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে। আমি উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। তাই সমাজের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির সহযোগিতা আশা করছি।’

দোলনার বাবা দুলাল হোসেন বলেন, ‘দোলনা মাঝে মাঝে অনাহারে স্কুল করেছে। হেঁটে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে স্কুল যেত। আমি ছোট একটা ব্যবসা করি। কোনো দিন ব্যবসা হয়, কোনো দিন হয় না। সংসারে লোকজন বেশি হওয়ায় আমার সামান্য আয়ে সংসার চলে না।’

মারুফা বেগম বলেন, ‘আমাদের আর সামর্থ্য নেই মেয়েকে কলেজে পড়াতে।’

বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও প্রতিবেশী হানিফ উদ্দিন (৬০) বলেন, দোলনার বাবার জমি নেই। শত কষ্টের মাঝেও সব ক্লাসে ভালো ফল করেছে মেয়েটি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত আমরা তাকে লেখাপড়ার উপকরণ দিয়ে ফ্রি পড়ার বন্দোবস্ত করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা