kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

চার দিনেই ধসে গেল পাঁচ লাখ টাকার ড্রেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দের এই ড্রেনটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পাঁচ দিন পরই এর বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের আঙিনায়।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় থেকে জানা যায়, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে ১৫০ ফুট পাকা ড্রেন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের পানি এই ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে পাশের নরসুন্দা নদীতে পড়ার কথা।

এলাকার লোকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর থেকে কিছুটা দূরে বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব-পশ্চিম দিকে আড়াআড়িভাবে পাকা ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্ব পাশের ড্রেনের দুই পাশের দেয়াল ১০ ইঞ্চি পুরু হলেও পশ্চিম পাশের দেয়াল দুটি পাঁচ ইঞ্চি পুরু। নিম্নমানের কাজ করায় ওই পাঁচ ইঞ্চি দেয়ালের এক পাশ ধসে নিচে পড়ে গেছে। ফলে পুরো ড্রেনের নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিদ্যালয়ের আশপাশের বাসিন্দারা। কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, এক দিনের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের চাপ নিতে পারেনি সদ্য নির্মিত পাকা ড্রেন।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে রমজানের ছুটি চলছে। কার্যালয় খোলা পেয়ে ড্রেন নির্মাণের বিষয়টি জানতে চাইলে উপস্থিত শিক্ষকরা এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। পরে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষক অনিমা রানি সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫০ ফুট নালা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহাগ এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ শেষ করে গত ৯ মে নালাটি বিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। এরপর ১৩ তারিখ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি কাজটি আরো দেখে অনাপত্তি পত্রে স্বাক্ষর দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদারের ব্যাপক হুমকি-ধমকিতে আগেই স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজটির ঠিকাদারের মোবাইল নম্বরে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে এ নির্মাণকাজের তদারকি করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ফখরুল আলম। তিনি বলেন, ‘কাজ তো ভালোই হয়েছিল দেখে এসেছিলাম। কেন এমন হলো ফের গিয়ে দেখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা