kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

বাগমারা

স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আলোকনগর মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ আসাদুল ইসলাম নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান তিনি।

আলোকনগর মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মারা যান। এরপর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুপস্থিতিতেই ওই বছরের ৭ নভেম্বর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ রেখে কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক আসাদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময় তাঁকে পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকালীন সময়ে আমজাদ হোসেন নামের একজন জুনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন ও গোপনীয়তার কারণে পরিচালনা পর্ষদের চারজন সদস্য গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালকের কাছে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেতন প্রদান না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আফজাল হোসেন জানান, অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার কারণে তাঁর মেয়ে এইচএসসি পাস করলেও কলেজ থেকে প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়নি। প্রশংসাপত্র নিতে তিনি একাধিকবার অধ্যক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

এদিকে অধ্যক্ষ আসাদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কলেজেও যান না। তিনি ব্যস্ত থাকেন নিজের ইটখোলার ব্যবসাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে। ছাত্রীদের কাছ থেকে উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার নামে ২০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কলেজের বিভিন্ন ফান্ডের টাকার কোনো হিসাব দেন না। ব্যক্তিগত কাজে ইচ্ছামতো কলেজের টাকা খরচ করেন তিনি। অথচ কলেজটি শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু এসব সমাধানে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই অধ্যক্ষের।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন খাতের নাম করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও এসব টাকার কোনো হিসাব নেই। এমনকি ওই সব খাতে কোনো উন্নয়নও চোখে পড়ে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে গেলেও তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান অধ্যক্ষ। ফলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে কলেজটিতে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় চলা এ অধ্যক্ষের ভয়ে সবাই তটস্থ থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের কোনো অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

তবে এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। এমনকি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষ হওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা