kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

শত বাধা পেরিয়ে

খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে অদিতি

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে অদিতি

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে অদিতি নুনিয়া, যা স্কুলটির ইতিহাসে প্রথম। পিইসি ও জেএসসিতেও জিপিএ ৫সহ বৃত্তি পেয়েছে অদিতি। কিন্তু ভালো ফল করলেও অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে মেয়েটি।

উপজেলার চা বাগান অধ্যুষিত মাধবপুর বস্তি লাইন এলাকায় থাকে অদিতি। সংসারে আছে মা রুমা নুনিয়া ও ভাই অতুল নুনিয়া। বাবা নেই মেয়েটির। মাধবপুর চা বাগানের ভেতর ছোট্ট বিউটি পার্লারে কাজ করে সংসার আর দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালান রুমা। কোনো কোনো দিন না খেয়েই ঘুমাতে হয়েছে অদিতিদের। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণা আর দারিদ্র্য দমাতে পারেনি মেয়েটিকে। খেয়ে, না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে।

অদিতির মা রুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অদিতির বাবা বেঁচে থাকতে আমাদের কোনো কিছুর অভাব ছিল না। হঠাৎ করে মরে গিয়ে আমাদের ভাসিয়ে গেল অথই সাগরে। অনেক কষ্টে সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছি। আর পারছি না। উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এত টাকা আমি কোথায় পাব?’

চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন বাবা। তাই অদিতির স্বপ্ন চিকিৎসক হবে। দরিদ্র রোগীদের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবে। কিন্তু তার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টাকা। উচ্চাশিক্ষা অর্জন করাটা বিলাসিতার মতো লাগছে তার কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা