kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

যশোরে শ্রমিককে রড দিয়ে পেটালেন পুলিশ সার্জেন্ট

যশোর অফিস   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরে শ্রমিককে রড দিয়ে পেটালেন পুলিশ সার্জেন্ট

যশোর হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পলিটন মিয়া লোহার রড দিয়ে পেটাচ্ছেন শ্রমিক সিরাজুল ইসলামকে। পরে (ইনসেটে) তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি দুটি গতকালের। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরে হাইওয়ে পুলিশ সার্জেন্ট পলিটন মিয়ার মারধরে সিরাজুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা-বেনাপোল সড়কের শংকরপুর টার্মিনালের পাশে চাকলাদার ফিলিং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহত সিরাজুল ইসলাম এখন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি খুলনা-বেনাপোল সড়ক উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের সিগন্যালম্যান।

মারধরের ঘটনার পর উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা মাটি খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর মেশিন আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করেন। ফলে প্রায় আধাঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন। অভিযুক্ত সার্জেন্ট পলিটন মিয়া যশোরের নাভারণ হাইওয়ে ফাঁড়িতে কর্মরত।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য সড়কের একপাশ খোঁড়া হচ্ছে। এ কারণে সড়কের আরেক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একসঙ্গে দুই পাশের গাড়ি চলাচল করলে জ্যাম লেগে ভোগান্তি হবে, তাই একপাশের যানবাহন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে আরেক পাশ ছাড়ছিলাম। ঘটনার সময় যশোর সাইডের গাড়ি ছেড়ে খুলনার সাইড বন্ধ করি। এ সময় যশোর থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো খুলনার দিকে যাচ্ছিল। তবে খুলনার দিক দিয়ে আসা সব গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও সার্জেন্ট পলিটন মিয়া চলে আসেন। তখন তিনি সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারে ছিলেন। সিভিল পোশাকে থাকায় তাঁকে চিনতে পারিনি। এ সময় আমি তাঁকে বলি, ‘ভাই, একটা মিনিট পরে যান। আপনি যদি সামনে যান সবার ভোগান্তি হবে।’ এ কথা বলার পর তিনি গাড়ির দরজা খুলে নেমেই তাঁর হাতে থাকা একটি কভার পরানো লোহার রড দিয়ে আমাকে অমানবিকভাবে পেটাতে থাকেন। তিনি আমার বাঁ হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে অনেক মেরেছেন।”

সিরাজুলকে চিকিৎসা প্রদানকারী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হাসান তুহিন বলেন, ‘তাঁর বাঁ হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। বিশেষ করে বাঁ পায়ের আঘাত গুরুতর হতে পারে। তাঁর পা ভেঙেছে কি না তা জানার জন্য এক্স-রে করতে দেওয়া হয়েছে।’

মাহবুব ব্রাদার্সের সুপারভাইজার জুম্মন শেখ বলেন, ‘ঘটনা জানার পর পুলিশ সুপার অফিস থেকে আমাদের ডাকা হয়েছিল। আমরা ঘটনাটি বিস্তারিত বলেছি।’

পুলিশ সার্জেন্ট পলিটন মিয়া বলেন, ‘মুড়লি মোড় থেকে ফিরছিলাম। এ সময় গাড়ি ব্রেক করি। সে হয়তো মনে করেছিল, গাড়ি টান দিয়ে চলে যাব। ওই সময় সে আমার গাড়িতে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে। এতে আমারও রাগ হয়। সত্যি বলতে আমিও তখন লাঠি দিয়ে তাঁর হাতে একটি বাড়ি মারি। শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা