kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সুনামগঞ্জে কর্মসৃজন প্রকল্প

বরাদ্দের আগেই কাজ শেষ

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরাদ্দের আগেই কাজ শেষ

সুনামগঞ্জ সদরের মোহনপুর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা (উপসহকারী প্রকৌশলী) ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জড়িত বলে অভিযোগ। 

তবে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে বিল দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা যায়, মোহনপুর ইউনিয়নে গত ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসৃজন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আর প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় গত ২৫ এপ্রিল। কিন্তু এর আগেই ‘বাণিপুর নয়াহাটির মিজানের বাড়ির সামনে থেকে শাহাব উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ করা হয় বলে অভিযোগ। এ প্রকল্পে সাত লাখ টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা উপজেলার সবচেয়ে বড় প্রকল্প। কিন্তু এলাকাবাসীর মতে, এ প্রকল্প একমাত্র শাহাব উদ্দিনের উপকারেই আসবে। তাঁর বাড়ি ছাড়া আর কোনো বাড়ি না থাকায় এর উপকারভোগী শুধু তিনিই। তা ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল খনন কর্মসূচির ‘সহযোগিতায়’ কৌশলে রাস্তার কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের আরো অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাস থেকে শাহাব উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন পাউবোর খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এক্সকাভেটর মেশিনে খাল খনন করছে ঐশী এন্টারপ্রাইজ। খাল খননের সময় মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, মেশিনম্যান ও পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে পাশের রাস্তাটি নির্মাণ করিয়ে নেন। প্রকাশ্যে মেশিন দিয়ে মাটি কেটে এখন তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিক মিয়া ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদ মিয়ার সহযোগিতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের শ্রমিকদের নামের তালিকা তৈরি করে বিল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ প্রকল্পে বড়জোর তিন লাখ টাকা বরাদ্দই যথেষ্ট ছিল বলে মনে করে এলাকাবাসী। মূলত টাকা আত্মসাৎ করতেই বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। 

অন্যদিকে একই ইউনিয়নে এ প্রকল্পের পাশেই আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজও হয়েছে ছয় মাস আগে। প্রকল্পভুক্ত ‘বর্মা উল্টর গ্রামের আব্দুন নূরের বাড়ির সামনের পুরাতন কর্মসৃজন রাস্তার মাথা পর্যন্ত’ প্রকল্পটিতে আরো দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি ভালো থাকায় এখানে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে পাউবোর ঠিকাদারের সহযোগী হাবুল চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব মেশিন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে রাস্তাটি করেছেন। তবে এ মেশিনেই আমরা খাল খননও করেছি। তিনি কিভাবে মেশিন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছেন, সেটা আমাদের জানা নেই।’

অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী তৌহিদ বলেন, ‘আমার সামনে কাজ করিয়েছেন চেয়ারম্যান।’ তবে মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত পিআইও মানিক বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ আগেই করিয়ে নিই। কারণ পানি এলে কাজ করা যায় না।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতি হলে বিল দেব না।’

একই ধরনের কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন নাহার রুমা। তিনি বলেন, ‘ওভারলেপিং হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিল দেব না। আমি নিজেই সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য