kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদের প্রাক্কালে

শেরপুরে যত্রতত্র সেমাই কারখানা

নাটোরে ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে জরিমানা

শ্রীবরদী (শেরপুর) ও গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুরে যত্রতত্র সেমাই কারখানা

শ্রীবরদীর উত্তর ষাইটকাঁকড়া গ্রামের একটি লাচ্ছা সেমাই কারখানা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শেরপুরের শ্রীবরদীতে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত তেল ও রং ছাড়াও মানবদেহের ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান। তাই এসব লাচ্ছা সেমাই কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর দাবি তুলেছে স্থানীয় লোকজন।

জানা গেছে, শ্রীবরদী পৌর শহরের পশ্চিম বাজারের কলেজ রোড, তাঁতিহাটি নয়াপাড়া, ষাইটকাঁকড়া, শেখদিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা রয়েছে। তাদের নেই কোনো বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব কারখানায় সেমাই তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ময়দা ও তেল। মেশানো হচ্ছে রং ও বিষাক্ত কেমিক্যাল। পা দিয়ে মাড়ানো হচ্ছে ময়দাসহ অন্যান্য উপাদান।

পশ্চিম বাজারের শফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জানায়, ঈদ ঘনিয়ে এলেই এসব কারখানায় তৈরি করা হয় লাচ্ছা সেমাই। এসব সেমাই খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় শিক্ষিকা আছমা আক্তার জানান, এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে নামিদামি কম্পানির লেবেল দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য অনেকে বাজারে গিয়ে বুঝতে পারে না কোনটা নকল আর কোনটা আসল!

কারখানার মালিকরা জানায়, সনাতন পদ্ধতিতে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য পা দিয়ে মাড়ানো হয় ময়দাসহ অন্যান্য উপাদান।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান জানান, উপজেলায় কোনো সেমাই কারখানার অনুমোদন নেই। কোথাও সেমাই কারখানার সন্ধান পেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বলেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি এসব লাচ্ছা সেমাই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব সেমাই খেয়ে মানুষ গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর বলেন, ‘অনুমোদনবিহীন সেমাই কারখানাসহ ভেজাল খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

নাটোরের গুরুদাসপুরে ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে অভিযান চালিয়ে তিন কারখানা মালিকের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব-৫-এর (সিপিসি-২) নাটোর ক্যাম্পের এএসপি রাজিবুল আহসানের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় পুরানপাড়া এলাকার ভেজাল গুড় কারখানার মালিক সুজন, মুক্তার শাহ ও আলামিনকে ভেজাল গুড়সহ গ্রেপ্তর করে র‌্যাব-৫। পরে শুক্রবার সকালে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তিন লাখ টাকা করে ৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা