kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অপুষ্টির ডাইনিং

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অপুষ্টির ডাইনিং

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোর খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। হল শিক্ষার্থীদের খাবারে ভর্তুকি দেওয়া হয় না। ফলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয় হলগুলোতে। তাই খাবারে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি হলে ক্যান্টিন চালু করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল আছে। এর মধ্যে তিনটি ছাত্রদের, আর একটি ছাত্রীদের। হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের জন্য দুপুরে ও রাতে হলের ডাইনিংয়ে খাবার পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে মোটা চালের ভাত, ছোট এক টুকরা মাছ বা মাংস আর পাতলা ডাল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের ম্যানেজাররা কম দামে নিম্নমানের তরকারি ও মাছ-মাংস কিনে দীর্ঘদিন রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করে রাখে। এ ছাড়া রান্না করার স্থানসহ খাবার পরিবেশনের জায়গা বেশির ভাগ সময় অস্বাস্থ্যকর, অপরিষ্কার ও নোংরা থাকে। ডাইনিংয়ের কর্মীরা নোংরা হাতে খাবার পরিবেশন করে। কখনো কখনো ডাল, তরকারি ও ভাতের মধ্যে পোকা পাওয়া যায়। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে রান্না করে খায়। কেউ কেউ আবার উচ্চমূল্যে বাইরের হোটেলে খায়। কিন্তু হোটেলগুলোর খাবারের মান নিয়েও আছে অভিযোগ। নোংরা পরিবেশ ও পচা-বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগে একাধিকবার হোটেলগুলোকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। 

কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুহেল রানা বলেন, ‘হলের খাবারের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অধিকাংশ সময় খাবার খাওয়ার অনুপযোগী থাকে।’ নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফিন জাহান বলেন, ‘হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান খুবই খারাপ। এ জন্য বাধ্য হয়ে আশপাশের হোটেলে খাই। কিন্তু সেখানেও নিম্নমানের খাবার বেশি দামে খেতে হয়। হলে ক্যান্টিন থাকলে আমাদের এ সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হতো।’

অভিযোগের বিষয়ে ডাইনিং ম্যানেজাররা বলেন, ‘মূলত যে পরিমাণ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় তাতে এ থেকে ভালো মানসম্পন্ন খাবার পরিবেশন করা কষ্টকর। মান বাড়াতে হলে খাবারে ভর্তুকি প্রয়োজন।’  

এ ছাড়া হলের বাবুর্চিদের রান্না খুব খারাপ বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আর কাজী নজরুল ইসলাম হলের বাবুর্চি আয়াত আলী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতা করেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে হলটির প্রাধ্যক্ষ কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘বাবুর্চির অসদাচরণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ক্যান্টিন চালু করা একটু কঠিন। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকেও উদ্যোগ নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘খাবারে ভর্তুকি দেওয়া ও ক্যান্টিন চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আশা করছি দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।’ তবে কেউ নিজ উদ্যোগে আবাসিক হলগুলোতে ক্যান্টিন দিতে চাইলে হল প্রভোস্টের অনুমতি নিয়ে তা করা যাবে বলে জানান রেজিস্ট্রার।

 

মন্তব্য