kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

দরপত্র ছাড়াই অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (পিপিআর) অনুযায়ী একসঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার বেশি কেনাকাটা করতে পারবে না সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে রাজশাহী মহানগরীর একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ভবন সংস্কার ও বর্ধিতকরণ কাজ করেছেন।

বর্ধিত অংশের একটি কক্ষ করেছেন শিক্ষকদের জন্য। দোতলায় নিজের বাসভবন গড়ে তুলেছেন। সেই বাসভবনে নিয়েছেন এসি। যার বিদ্যুৎ বিলও যায় বিদ্যালয়ের টাকা থেকে। রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফরের এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তবে এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি নিয়ে শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ভবনটির বর্ধিতকরণ কাজ করেছেন।

পিপিআর অনুযায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার কেনাকাটা বা ব্যয় করতে পারবে। তবে এ জন্যও কোটেশন আহ্বান করতে হবে। কোটেশন আহ্বান করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে দিয়ে কাজটি করানো যাবে। আর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে হলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করাতে হবে। কিন্তু রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই দুটি নিয়মের কোনোটিই না মেনে বিদ্যালয়ের হলরুমের পাশে আরেকটি কক্ষ নির্মাণের পাশাপাশি হলরুমের ওপর আরেকতলা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া বেশ কিছু আসবাব ক্রয় বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলনকৃত অর্থ দিয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব কাজ করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফরের দেওয়া তথ্যমতে, হলরুমের সঙ্গে শিক্ষকদের বসার জন্য যে কক্ষটি তৈরি করা হয়েছে তার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। আর হলরুমের ওপরে কক্ষ নির্মাণের জন্য ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক দেবাশীষ রঞ্জন রায় বলেন, ‘পাঁচ লাখ টাকার ওপরে কখনো কোনো বিদ্যালয় টেন্ডার ছাড়া ব্যয় করতে পারে না। আর পাঁচ লাখ টাকার নিচে হলে অবশ্যই কোটেশন লাগবে। সেটিও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা করতে পারেন না। ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য