kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

চাঁদাবাজি

মাহুতের ইশারায় শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে অটোচালককে আছাড় মারল হাতি!

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাহুতের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় মাহুতের ইশারায় একটি হাতি এক অটোচালককে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ওপরে তুলে মাটিতে আছাড় মেরেছে। এতে অটোচালক বাতেন মিয়া (৪৮) মারাত্মক আহত হন। তাঁর মাথা ফেটে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে এবং বাঁ ঊরুসন্ধির সংযোগস্থলের (হিপ) হাড় স্থানচ্যুত হয়ে যায়। এ ছাড়া তাঁর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পাঁজরের হাড়েও চির ধরেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

অন্যদিকে ঘটনা ঘটিয়ে পলায়নরত মাহুত এনামুলকে (১৮) জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এনামুল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের ফয়জুদ্দিনের ছেলে। হাতিটিও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার অটোচালকের মেয়ের জামাই জিয়াউল হক বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাধীন বাজিতপুর-ঢাকা সড়কের আগরপুর এলাকায় মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অটোচালক বাতেন মিয়াকে মঙ্গলবারই বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, কুলিয়ারচরের আগরপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এ অটোচালক একজন হূদরোগীও। তিনি চার সন্তানের জনক।

কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, হাতির মালিক নরসিংদীর শিবপুরের কাজল, মাহুত এনামুল এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুজনকে আসামি করে আহতের পরিবারের পক্ষে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় গতকাল বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। আটক মাহুতকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।      

ঘটনার শিকার অটোচালক, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ঘটনার সময়ে কুলিয়ারচরের পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে পোষা একটি হাতি নিয়ে মাহুত এনামুল উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে বাজিতপুরের দিকে রওনা হয়। মাহুত পথিমধ্যে দোকানদার, পথচারী এমনকি রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়ির গতি রোধ করে ১০-২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতে থাকে। একপর্যায়ে আগরপুর উত্তরপাড়ার কাছে এসে হাতিটি বাতেন মিয়ার অটোরিকশার পথ রোধ করে। এ সময় গাড়িতে এক যাত্রীও ছিল।

বাতেন মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করে মাহুতকে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। সে সময় মাহুত কী যেন ইশারা দেয়। মুহূর্তেই হাতিটি শুঁড় বাড়িয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে ধরে গাড়ি থেকে বের করে ওপরে তুলে নিয়ে আছাড় মারে। এরপর বুকের ওপর শুঁড় দিয়ে আবার চেপে ধরে রাখে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নাকমুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে। পরে লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কয়েক মাস আগেও একই মাহুতের সঙ্গে টাকা দেওয়া নিয়ে তাঁর ঝগড়া বেধেছিল বলে জানান তিনি।

জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট ২-এর সহকারী অধ্যাপক ডা. সানজিদা সা’দ কালের কণ্ঠকে জানান, বাতেন মিয়ার সারা শরীরেই আঘাত। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হিপ ডিজলোকেশন হয়েছে। বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। ফুসফুসে ইনজুরি হওয়ায় টিউব জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মাথা ফেটেছে। তাঁকে সুস্থ করে তোলার সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। 

কুলিয়ারচর থানাহাজতে আটক মাহুত এনামুল হক কালের কণ্ঠকে জানায়, সে বেতনভোগী মাহুত। পাঁচ হাজার টাকা বেতনে তার মতো আরো অন্তত পাঁচ থেকে ১০ জন মাহুত হাতি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টাকা তুলছে। অবশ্য তাদের সরদারের বেতন ২০ হাজার টাকা। তার হাতিটির মালিক নরসিংদীর জনৈক কাজল বলে সে জানায়।

নরসিংদীতে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, এ হাতিগুলো মূলত সার্কাস দলের।

মন্তব্য