kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মনোহরদী

আনসার নিয়োগে দুই কর্তার ঘুষ বাণিজ্য

ইসমাইল হোসাইন, মনোহরদী (নরসিংদী)   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বিভূতিভূষণ প্রামাণিক ও প্রশিক্ষক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে আবারও বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্য নিয়োগে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় সাত লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের খবর কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় এলেও রহস্যজনক কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এখন কার্যালয়ে বসেই প্রকাশ্যে উেকাচ নিচ্ছেন তাঁরা। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রায় এক হাজার ২০০ আনসার সদস্যের কাছ থেকে আট লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সারা দেশে আনসার সদস্য নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মনোহরদী উপজেলায় ২৮ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের প্রার্থী নির্বাচন করে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বিভূতিভূষণ প্রামাণিক ও উপজেলা প্রশিক্ষক নাজমুল ইসলাম ঘুষ বাণিজ্যের ফাঁদ পেতে বসেছেন। তাঁরা আনসার কমান্ডার পদের জন্য ২৫-৩০ হাজার টাকা ও  সহকারী আনসার কমান্ডার পদের জন্য ১৭-২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই হিসাবে এরই মধ্যে তাঁরা ছয় লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন।

জানা গেছে, কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিনা পয়সায় দায়িত্ব পালন করা যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে টাকার বিনিময়ে সেসব পদে নতুন ও অনভিজ্ঞ লোকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বিভূতিভূষণ প্রামাণিক ও প্রশিক্ষক নাজমুল ইসলাম মনোহরদী উপজেলায় যোগদান করার পর থেকে এ কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ার নামে নিরীহ আনসার সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী আনসার সদস্য বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিনা পয়সায় ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখন স্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আমার পদ স্থায়ী করতে উপজেলা প্রশিক্ষক নাজমুল ইসলাম ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। সে অনুযায়ী কয়েক দিন আগে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কাজ সম্পন্ন হলে বাকি ১০ হাজার টাকা দেব।’ অন্য আরেকজন আনসার সদস্য আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই বাহিনীকে ভালোবাসি বলে নিজের শ্রম, অর্থ-সম্পদ বিনা মূল্যে ব্যয় করেছি। অথচ সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিজের সন্তানের নিয়োগের জন্য কর্মকর্তাদের ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।’

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা বিভূতিভূষণ প্রামাণিক বলেন, ‘মনোহরদীতে আনসার কমান্ডার পদে কোনো প্রকার নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়নি। নিয়োগের নামে কেউ অর্থ লেনদেন করে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘আনসার ও ভিডিপি অফিসের অনিয়মের বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য