kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পাঁচ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দেড় হাজার

ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তীব্র গরমে ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ দিনে জেলার অন্তত দেড় হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে সদর হাসপাতালসহ তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিনে সদর হাসপাতালে ৩৮০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। তবে তাদের মধ্যে ৩০০ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এ ছাড়া নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট থাকায় অনেকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগী বেশি হওয়ায় আইভি স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। অন্যদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। সদর হাসপাতালে ভর্তি উত্তম দাস বলেন, এখান থেকে মাত্র একটি স্যালাইন দিয়েছে। আর সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

একই হাসপাতালে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন মারুফ হাওলাদার। তাঁর বাবা রুবেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ‘আমরা সিট পাইনি, তাই মেঝেতে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার ছেলেকে মাত্র একটি স্যালাইন দিয়েছে এখান থেকে। দুটি স্যালাইন কিনতে হয়েছে। চিকিৎসকরাও সময়মতো আসেন না। নার্সরাই এখানের চিকিৎসক।’

অন্যদিকে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী ও শিশুদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায়। এখানে ২১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন মাত্র চারজন। তাঁদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। উপচে পড়া ভিড় ছিল আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার কক্ষে। বাকি দুজনের কক্ষে তেমন ভিড় ছিল না। ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। মেঝেতে শুয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ সেবিকা মনখুশি বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। দুই দিন আগে যে রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি আবারও আক্রান্ত হয়ে আজ (গতকাল) ভর্তি হয়েছেন।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, ‘পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন নেই। ডায়রিয়ার সব রোগীকেই চিকিৎসা দিচ্ছি। রোগীর চাপ বেশি থাকায় একটি করে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বেশি লাগলে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’

মন্তব্য