kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বাগাতিপাড়া

পাউবোর সম্পত্তি বেহাত

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর    

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাউবোর সম্পত্তি বেহাত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁশবাড়িয়া হালকা সেচ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। ১৯৮৯ সালে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তরের পর থেকে এই প্রকল্প দেখার কেউ নেই। যার কারণে প্রকল্পের পাকা ড্রেন, খাল ভরাট করে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও বেসরকারি অফিস নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে বাগাতিপাড়ার জামনগরে প্রায় ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে কৃষকদের সুবিধার জন্য পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁশবাড়িয়া হালকা সেচ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে দুই একর জমিতে নির্মিত হয় স্টাফ কোয়ার্টার, অফিস ঘর ও মেশিন ঘর। বাকি জমিতে পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হয় পাকা ও শাখা নালা। নালাগুলো বাঁশবাড়িয়া, মুন্সিপাড়া, কৈচরপাড়া, চাঁপাপুকুরের মধ্য দিয়ে কালিকাপুর মাঠ ও গয়লার ঘোপ পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব এলাকার দুই হাজার ৩০০ একর জমিকে প্রকল্পের আওতায় এনে ১৯৬৮ সালে বড়াল নদ থেকে পানি উত্তোলন করে তা সরবরাহের জন্য ৩০টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প বসানো হয়। পরে পর্যায়ক্রমে খরচ কমাতে ডিজেল পাম্প পরিবর্তন করে বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহার করা হয়। ফলে একসময় যেসব জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে থাকত, সেসব জমিতে উর্বরতা ফিরে আসে। ফসল উৎপাদন বেড়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে সচ্ছলতা ফিরতে থাকে।

এদিকে ১৯৮৯ সালে হঠাৎ করে এই প্রকল্পের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। পরে দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সুবিধাভোগীদের কাছে। কিন্তু নানা কারণে পাম্পগুলো বন্ধ থাকে। তা ছাড়া নজরদারির অভাবে ওই প্রকল্পের জমিসহ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল হতে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ জমিতে বসতবাড়ি, পাকা দোকান, বেসরকারি অফিস, ড্রেন ভরাট করে রাস্তা তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। যার দরুন এখন আর তেমন কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না কৃষকরা। ফলে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একে একে হারিয়ে গেছে বেশির ভাগ সেচ পাম্প, নষ্ট হয়ে গেছে লোহার পাইপলাইন, ভেঙে ফেলা হয়েছে পাকা নালা। এলাকার ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকল্পটি দখলমুক্ত করে ফের চালু করার।

এ বিষয়ে এলাকার কৃষক ইয়াকুব আলী, আবুল কালাম, আয়ুব আলী, হোসেন আলী, বারেক আলী, সেকেন্দার রহমান জানান, সেচের অভাবে তাঁরা সুষ্ঠুভাবে ফসলাদি উৎপাদন করতে পারছেন না। ফলে তাঁরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সেচ প্রকল্পের আওতার সুবিধাভোগী কৃষক সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পুরো এলাকাকে তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত করে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে একটি ডিভিশন গয়লার ঘোপ অঞ্চলে মাত্র দুটি বিদ্যুত্চালিত মোটরের মাধ্যমে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম চলমান। যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় এবং এসব যন্ত্রাংশ মেরামতের আর্থিক সংকুলান না থাকায় অন্য দুটি ডিভিশন বন্ধ রয়েছে। আর এ বন্ধ থাকার সুযোগে সেখানকার জমিগুলো প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে।’

জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘প্রকল্পটির পুরো সম্পদ পাউবোর নিয়ন্ত্রণাধীন। তাদের উদাসীনতার কারণে এসব সম্পদ বেদখলে যাচ্ছে। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পটি বেদখল বা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু সরকারের সম্পদেরই ক্ষতি হবে না, এর বিরূপ প্রভাব পড়বে কৃষিতে।’ তিনি দ্রুত দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রকল্পের এমন পরিস্থিতিতে নাটোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার প্রকল্প স্থানীয় সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এখন এগুলো তাঁরাই দেখাশোনা করেন। দখল হয়ে যাওয়া জমিগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই দখলদারদের উচ্ছেদ করে ফের ব্যবহার উপযোগী করা হবে।’

মন্তব্য