kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ভোট না দেওয়ায় মেম্বারের আক্রোশ

রিকশাচালক পিটুনি খেয়ে এখন খাচ্ছেন জেলের ভাত

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোটের সময় রিকশাচালক বাদল মিয়া ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবুল কাশেমের বিপক্ষে সিল মেরেছিলেন। তাই ইউপি নির্বাচন জিতে আবুল কাশেম সুযোগের খোঁজে ছিলেন। সুযোগটা পেয়ে আক্রোশ মেটালেন গরু চুরির অপবাদে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে। রিকশাচালক বাদল মিয়াকে প্রকাশ্যে পিটিয়েও ক্রোধ কমেনি ওই মেম্বারের। গরু চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে এখন খাওয়াচ্ছেন জেলের ভাত। গত ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের উস্থি ইউনিয়নের পাল্টিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রিকশাচালক বাদলকে নির্দয়ভাবে পেটানোর পর গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিনিধির হাতে আসে।

জনপ্রতিনিধির আক্রোশে গরু চুরি মামলায় বাদল মিয়া এখন ময়মনসিংহ জেলহাজতে। তাঁর দুই শিশুসহ স্ত্রী রাবেয়া বেগম এমন ঘটনায় দিশেহারা। লোকজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বামীর জন্য কিছুই করতে পারছেন না। তাঁর সংসারের চাকা ঘুরছে ভিক্ষে করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল রাতে বড় বাড়ি গ্রামের কৃষক আলামিন মিয়ার একটি গরু চুরি করে একই গ্রামের হিমেল নামে এক যুবক। পর দিন ভোরে পাশের পাল্টিপাড়া গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন গরুসহ হিমেলকে আটক করে বেঁধে রাখে। এ সময় উস্থি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাশেম সেখানে ছুটে যান। তিনি হিমেলের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গরুর মালিক আলামিনকে ফোন করে গরু নিয়ে যেতে বলেন। পরে আলামিন বাদলসহ তিন-চার রিকশা ভরে লোকজন নিয়ে গরু নিতে পাল্টিপাড়া আসেন। পরে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ‘গরু চোর তর নাম কইছে’ বলেই রিকশাচালক বাদলকে জাপটে ধরে পিছমোড়া করে বেঁধে মাটিতে ফেলে বেদম পেটাতে থাকেন। এ সময় গরুর মালিক আলামিনসহ উপস্থিত অনেকেই প্রতিবাদ করেন। কিন্তু আবুল কাশেমের এক কথা ‘গরু চোর বাদলের নাম কইছে’। তবে মেম্বার কাশেম আসল গরু চোর হিমেল পাশে থাকলেও তাকে একটি টোকাও দেননি। এ সময় কাশেম বলেন, ‘কেউ ভিডিও কইরেন না’। শত শত লোকজনের সামনে রিকশাচালক বাদলকে নির্দয়ভাবে পেটানোর খবর পেয়ে পুলিশ গরুসহ চোর হিমেল ও রিকশাচালক বাদলকে থানায় নিয়ে যায়। পরে গরু চুরি মামলায় হিমেল ও বাদলকে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদিকে বাদলের জামিন না হওয়ায় তাঁর স্ত্রী রাবেয়া বেগম ছেলে খাইরুল (১২) ও মেয়ে  সুমাইয়াকে (৮) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাবলিক পিডাইয়া মাইরা ফালাইত। পাবলিকরে সান্ত্ব্তনা দেওয়ার লাইগ্যা আমি বাদলরে কয়েকটা পিডানি দিছি।’

রিকশাচালক বাদলের স্ত্রী রাবেয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘গরিব মাইনষের বিচার নাই। আমি আল্লাট্টাইন বিচার চাই।’

গরুর মালিক আলামিন মিয়া বলেন, ‘বাদল আমার গরু চুরি করেনি। সকালে বাদলরে ঘুমেত্তে তুইল্লা লইয়া গেছি। চোর অইলে আমারে লইয়া গরু আনতে যাইত না। মিছা দোষ দিয়া বাদলরে মারার সময় আমি মেম্বরের লগে তর্ক করছি, প্রতিবাদ করছি। কিন্তু কোনো লাভ অইছে না। বিনা দোষে বাদলরে চোর সাজাইয়া মাইরা জেলে পাডাইছে।’

গত ইউপি নির্বাচনে আবুল কাশেমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (পরাজিত) শামছুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাদল নিরীহ মানুষ। রিকশা চালাইয়া খায়। গত নির্বাচনে মেম্বর আবুল কাশেম বাদলকে তার পক্ষে কাজ করতে বলেছিল। কিন্তু বাদল আমার পক্ষে কাজ করায় কাশেম বাদলের ওপর ক্ষেপা ছিল।’

পাগলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়জুর রহমান নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখে বলেন, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ গ্রহণ করে রিকশাচালক বাদল মিয়ার মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

মন্তব্য