kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

জীবননগর

অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন

জহিরুল ইসলাম, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভায় মশার প্রকোপ বেড়ে গেছে। নিয়মমাফিক পরিচ্ছন্নতার অভাব আর অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশনই মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

জীবননগর পৌরসভাটি ১৯৯৭ সালে ৯টি ওয়ার্ড ও ২৪টি মহল্লা নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমানে এর জনসংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে পয়োনিস্কাশনের জন্য তৈরি ড্রেনেজব্যবস্থা বর্তমানে প্রায় অকেজো হয়ে আছে। সারা বছরই ড্রেনে ময়লা পানি আর আবর্জনা জমে থাকে।

জীবননগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, পৌরসভা গঠনের পর থেকে কখনো মশক নিধন অভিযান চালাতে দেখা যায়নি। মহল্লার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ড্রেনের জমাটবদ্ধ পানিতেই মশা বংশবিস্তার করছে। সন্ধ্যায় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করেও মশা থেকে রেহাই মিলছে না। মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও মশারি টানাতে হচ্ছে।

জীবননগর উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমান বলেন, মসজিদ, অজুখানা সর্বত্র মশার উৎপাত। এত মশা আগে কখনো দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত হলেও কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য একটি মাত্র গাড়িও বর্তমানে অকেজো। ময়লা ফেলার জন্য ভাড়া করা হয়েছে পাওয়ার টিলার। দৈনিক ১৫০ টাকায় মজুরিভিত্তিক লোক দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ন্যূনতম মজুরি না পেয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ থেকে বিরত থাকছেন। তাই দিনে দিনে ময়লার স্তূপ বেড়ে চলেছে। ড্রেনগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ডাস্টবিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা স্থায়ী হয়ে যাওয়ায় ড্রেন আর ডাস্টবিনে মশা বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মাহমুদ বিন হেদায়েত জানান, যেভাবে মশার উপদ্রব বাড়ছে, তাতে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ জন্য দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জীবননগর পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের তিনটি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় মশক নিধন অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকেও মেশিন কেনার সামর্থ্য নেই।’

 

মন্তব্য