kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

বর্ষায় ভূমিধসের আশঙ্কা

শ্যামল রুদ্র, রামগড় (খাগড়াছড়ি)   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্ষায় ভূমিধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রামের রামগড় উপজেলায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের রামগড় উপজেলায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়েও এটি বন্ধ করতে পারছে না। ফলে বর্ষায় ভূমিধসের আশঙ্কা করছে স্থানীয় লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শ্মশান টিলা, খাগড়াবিল, নজিরটিলা, বল্টুরাম, তৈচালা, থলিবাড়ী, জালিয়াপাড়া, কালাডেবা ও সোনাইআগা এলাকায় ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড় কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টর বোঝাই করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইটভাটা, রাস্তা ও পুকুর ভরাটসহ নানা কাজে এসব মাটি ব্যবহার করা হয়।

রামগড়ের শ্মশান টিলার পাহাড়টি অপরিকল্পিতভাবে কাটায় এটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর বসতভিটা, ফলদ ও বনজ গাছ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় অধিবাসী মো. এনামুল হক, কেখাই মারমা কারবারী, হৃদয় মারমা, রতন দে, শান্তি রঞ্জন ত্রিপুরা, নুুরুল ইসলাম, কেজইলা মারমা ও পুতুল ত্রিপুরা জানান, মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে জরুরিভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিলে পাহাড়ের বাকি অংশটুকুও তারা কেটে ফেলবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুকুর রহমান, মো. নজরুল, ইসমাইল মিয়া ও ইউনুছ অভিযোগ করে জানান, আবুল কালাম ও হেলাল উদ্দিন পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন একটি টিলা কেটে সাবাড় করেছেন। পাহাড় কাটার ফলে নাকাপা এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের সঞ্চালন লাইনের বৈদ্যুতিক খুঁটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কালাডেবা গ্রামের জনৈক বাসিন্দা জানান, স্কুলটিলা ও সোনাইআগার টিলা ও জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছে একটি দুষ্ট চক্র।

রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ জানান, টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন খাগড়াছড়ির সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কেটে বনভূমি ধ্বংস করার পাশাপাশি টপ সয়েল পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের সঠিক দেখভালের অভাবে দুর্বৃত্তরা প্রশ্রয় পাচ্ছে।’

পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মণীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ‘বর্ষায় এখানে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।’

রামগড় থানার পরিদর্শক তারেক মো. হান্নান বলেন, ‘প্রশাসনের অগোচরে দুষ্ট লোকেরা অনেক সময় পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যায়। খবর পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়, পাকড়াও করে।’

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত বলেন, ‘গত ১৪ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়েছি। এভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

মন্তব্য