kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মহাদেবপুর

তীর ঘেঁষে ড্রেজিং হুমকিতে বাঁধ

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী-মহাদেবপুর (নওগাঁ)   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে অবৈধভাবে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কংক্রিটের ব্লক (সিসি) ধসে পড়েছে। বাঁধটি ভাঙলে সরকারি খাদ্যগুদাম, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১৪-১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অফিসসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিশবাথান ঘাটে একই স্থানে সারি বেঁধে ১০ থেকে ১২টি খননযন্ত্র বসিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালীমহল। নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করায় সিসি ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। সিসি ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। ফলে ফসলি জমিসহ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এই এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থান নদীতে ধসে পড়ায় গত সপ্তাহে এলাকাবাসী বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছে।

গত বুধবার ও রবিবার মহিষবাথান ঘুরে দেখা গেছে, ড্রামের সাহায্যে নদীতে ছয়টি খননযন্ত্র ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। এসব যন্ত্রের সাহায্যে নদীর তলদেশে গর্ত করে বালু তোলা হচ্ছে।

কালের কণ্ঠে গত ১ এপ্রিল ‘আত্রাই নদীর ঘাটে বালু লুটের হিড়িক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবারক হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। প্রশাসনের বাধার মুখে বালু উত্তোলনকারীরা কয়েকটি ড্রেজার মেশিন (খননযন্ত্র) তুলে নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চলে আসার পর তারা আবার ড্রেজিং করে বালু তুলতে থাকে। প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করলে বুধবার সন্ধ্যায় ইউএনও আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ইউএনওর আগমন টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারী ও চালকরা ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। ট্রাকের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানায়, নদীর পানি কমে যাওয়ায় ছয়-সাত মাস ধরে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা বেড়ে গেছে। দিন-রাত সমান তালে বালু তোলা হয়। প্রশাসন এসব যন্ত্র বন্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়। তখন দু-এক দিন বালু তোলা বন্ধ থাকে। কিন্তু পরে আবার শুরু হয়। নীতিমালা উপেক্ষা করে সারি বেঁধে কয়েক হাত পর পর খননযন্ত্র বসিয়ে নদী গর্ত করে ওই এলাকায় চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু বিক্রি করে বিশেষ একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় একটি প্রভাবশালীমহল খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ফলে বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া। কোনো নীতিমালা তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

নদীপারের এক গৃহবধূ জানান, সারা বছর বালু উত্তোলন করার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে যাওয়ার পর যখন নদীর পানি কমে যায় তখন বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ জন্যই স্থানীয় লোকজন মহিশবাথান ঘাটে বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছে।

মহাদেবপুরের ইউএনও মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘মহিশবাথান ঘাটে তিন দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ বালু তুললে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘বাঁধ হুমকির মুখে তা আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। দ্রুত এই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ক্রমেই বাঁধের ক্ষতি করতে দেওয়া যাবে না।’

মন্তব্য