kalerkantho

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল

ছাত্রত্ব নেই, নেতৃত্ব আছে

রফিকুল ইসলাম ও রেদওয়ানুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের চলতি কমিটির মেয়াদ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। কমিটির দায়িত্বে থাকা অনেক নেতার ছাত্রত্বও শেষ হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে খুব একটা উপস্থিতি নেই তাদের। রাকসু নির্বাচনকেন্দ্রিক তাদের তেমন কোনো তৎপরতাও চোখে পড়ছে না। শুধু দুই-একটি জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েই দায় সারছে তারা।

সংগঠনের এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে একাধিক নেতাকর্মী মনে করছে। তাদের দাবি, যে কারণেই হোক না কেন রাবি শাখার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল এই কমিটি। তাই দ্রুত নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছে তারা।

এদিকে রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের অন্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলো দিনকে দিন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সেখানে মুখথুবড়ে পড়ে রয়েছে ছাত্রদল। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের যখন-তখন পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া, প্রশাসনের অসহযোগিতাসহ নানা কারণে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির বর্তমান কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ ২০০৪-০৫ সেশনে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ভর্তি হন। ২০১২ সালে তাঁর ওই বিভাগে পড়ালেখা শেষ হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ২০০৬-০৭ সেশনে ভর্তি হন। সেখান থেকে পরে মার্কেটিং বিভাগে এমবিএ কোর্সে ভর্তি হন। গত বছর এমবিএ শেষ করার মাধ্যমে তিনি ছাত্রজীবন শেষ করেন। এ ছাড়া সহসভাপতি আহসানুজ্জামান অলিন, ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনসহ অনেকেই পড়াশোনা শেষ করেছেন। অনেকেই চাকরি করছেন। তাই ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাজে তেমন মনোযোগ নেই তাঁদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই ইমতিয়াজ আহমেদকে সভাপতি ও কামরুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য রাবি শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মাত্র ছয়জনকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মাস তিনেক পর ১৪৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর থেকে ক্রমেই সংগঠনটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই এই কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করে। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যক্রম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় সংগঠনের তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় নতুন কর্মীরাও সংগঠনে আসছে না। এতে নেতাকর্মীরা পরস্পরের মধ্যে বিভক্তিতে জড়িয়ে পড়া ছাড়াও অন্য সংগঠনে নাম লেখাচ্ছে।

সাংগঠনিক কাজের এমন স্থবিরতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘কমিটির জন্য কর্মিসভা, কাউন্সিল দরকার। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুমের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। তবে আমরা বিষয়টি কেন্দ্রকে অবগত করেছি। আশা করি শিগগিরই রাবি শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসবে।’

সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমাদের উপস্থিতি আছে। তবে সাংগঠনিকভাবে উপস্থিতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা আসবে। আমরাও চাই দ্রুত নতুন নেতৃত্ব আসুক। এ ব্যাপারে আমি কেন্দ্রকে অবহিত করেছি।’

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যেই রাবির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

 

মন্তব্য