kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

নদীতে মিলল লাশ

পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা হলো না সিফাতের

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাইদুল হাসান সিফাত। বয়স ১০ বছর। চঞ্চল প্রকৃতির শিশু। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি, মাঠে-ঘাটে খেলাধুলা, পাখির বাসা খোঁজা, মাছ ধরা—এসব ছিল তার নেশা। লেখাপড়ায় তেমন আগ্রহ ছিল না। দাদার সঙ্গে নামাজ পড়ত নিয়মিত। দুরন্ত এ শিশুকে নিথর দেহে পাওয়া গেছে বাড়ির পাশের নদীর পারে। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের বরুকা নামাপাড়া গ্রামের।

ভ্যানচালক বাবা এনামুল হক বরুকা বাজার কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করেছিলেন প্রিয় সিফাতকে। পরে বরুকা নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করে সে। তবে ছেলেটি কোনো স্কুলেই পড়ালেখায় মন দেয়নি। তাই বাবার সিদ্ধান্ত, সিফাতকে মাদরাসায় ভর্তি করাবেন। এ জন্য তিনি বাজার থেকে পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি বানিয়ে আনেন। শনিবার সকালে নতুন কাপড় পরে বরুকা পুরাতন বাজার নুরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার কথা সিফাতের। তবে সকালে ঘুমের ঘোরেই বাবা জানতে পারেন, বাড়ির পাশে আয়মন নদীতে তাঁর প্রিয় সিফাতের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিফাতের সঙ্গে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের শিশুপুত্র মিনহাজের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে বিকেলে সিফাত ও তার বাবাকে মারধর করে প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম। রাতে বাড়ির পাশে মসজিদে দাদা হযরত আলীর সঙ্গে এশার নামাজ পড়তে যায় সিফাত। বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায় সিফাত। নামাজ শেষে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন দাদা। আর সিফাতের মা-বাবা ধারণা করেন, সিফাত দাদার সঙ্গে ঘুমিয়ে আছে। গতকাল ভোরে স্থানীয়দের খবরে সিফাতের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাদী এনামুল হক বলেন, ‘আমাকে ও শিশুপুত্রকে মারপিট করে শান্তি পায়নি, শেষ পর্যন্ত আমার শিশুপুত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করল। আমার ফেরেশতার মতো শিশুটি কী এমন অন্যায় করেছিল, যে কারণে তাকে খুন করতে হলো?’ ফুলবাড়িয়া থানার ওসি শেখ কবীরুল ইসলাম বলেন, শিশু হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

 

মন্তব্য