kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ফুলবাড়ী

ইউপি চেয়ারম্যানকে মারলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আতঙ্কে আ. লীগের নেতাকর্মীরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার ও তাঁর সমর্থকদের হামলায় দুজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হারুন গুরুতর আহত হয়ে এখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর আক্রোশ থেকে রক্ষা পেতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গাঢাকা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার নির্বাচিত হলেও দলীয় মনোনয়ন পান সভাপতি আতাউর রহমান শেখ। নির্বাচনে তিনি হেরে যাওয়ার পর তাঁর লোকজনের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে রব্বানী সরকারের সমর্থকরা।

ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রার্থী আতাউর রহমান শেখ বলেন, ‘নৌকার পক্ষে কাজ করায় বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান আমার কর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা করে আসছেন। নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগও করছেন। শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলীর ওপর হামলা ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসেন আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বড়ভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল ও নাওডাঙায় আওয়ামী লীগকর্মী শাকিলের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’

আহত হারুন অর রশীদ হারুন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিদ্রোহী প্রার্থী রব্বানী সরকার আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এর জেরে শুক্রবার রব্বানী সরকার, তাঁর ছেলে মনোয়ার সরকার পাশাসহ ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী আমাকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রাখেন। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মারধরের কথা স্বীকার করে নবনির্বাচিত ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, ‘রাস্তায় দেখা হলে ওকে দুইটা লাথি দিছি মাত্র। ওর কপালে আরো বেশি দুঃখ আছে।’

ফুলবাড়ী থানার ওসি ফুয়াদ রুহানী বলেন, এ ঘটনায় রব্বানী সরকারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য