kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

কালীগঞ্জ

শতকোটি টাকার সেতু ছয় মাসেই অন্ধকারে

হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শতকোটি টাকার সেতু ছয় মাসেই অন্ধকারে

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ সংযোগকারী শেখ হাসিনা সেতুর ওপর রাতে কোনো বাতি জ্বলে না। এ কারণে চালক ও যাত্রীরা বিপাকে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধনের পর ছয় মাস যেতে না যেতেই রাতে অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে। এক মাস ধরে জ্বলছে না বৈদ্যুতিক বাতিগুলো। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ সংযোগকারী সেতুটি রাতে পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অবশ্য এর বেশ কিছুদিন আগে থেকে সেটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। নকশা অনুযায়ী মূল সেতুর উভয় পাশে লাগানো হয় সড়কবাতি, যা শুরু থেকেই জ্বলছিল।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্র জানায়, সেতু চালু হওয়ার আগেই সেখানে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়। আর বাতি জ্বালানোর জন্য সেখানে স্থাপন করা হয় একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। অর্থাৎ দিনের বা সূর্যের আলো কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলে উঠবে। সকাল হলে একইভাবে তা নিভে যাবে। যানচলাচলে সেতুটি খুলে দেওয়ার পর থেকে সেভাবেই চালু ছিল।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উভয় দিক পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। সেতুতে লাগানো একটি বাতিও জ্বলছে না। চরাঞ্চলের বাসীন্দারা ছাড়া সাধারণ পথচারীরা চলাচল করছে অন্ধকারে। সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অন্ধকারে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়ছেন। সেতুর উত্তর প্রান্তের হালিম বিক্রেতা ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘প্রায় এক মাস থেকে সেতুর বাতি জ্বলছে না। এতে সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। বখাটেরা অনেক সময় ঘুরতে আসা নারীদেরও উত্ত্যক্ত করছে।’

পানের দোকানদার আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ ঘুরতে আসত। কিন্তু সন্ধ্যার পর এখন এখানে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। কারণ অন্ধকারে ছিনতাইসহ নানা ঘটনা ঘটছে। আবার আগে অনেক রাত পর্যন্ত সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও রাতে তা কমে গেছে।’

এক ইজিবাইকচালক বলেন, ‘সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের বেলা যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের পান দোকানি নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুনেছি বিদ্যুতের বিল না দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান আলী বলেন, ‘ফাঁকা এলাকায় অনেক বড় সেতু। রাতে লাইট না থাকায় মাঝেমধ্যে সেতুর ওপর গাড়ি থামিয়ে লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলুন।’

এলজিইডি লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আমিরুজ্জামান বলেন, ‘সেতুতে আলো না জ্বলার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি’। তবে তিনি জানান, সেতুর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে তহবিলের সমস্যা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘বিল তো অনেক বাকি পড়েছে। এর পরও সংযোগ বিচ্ছন্ন করা হয়নি।’ বর্তমানে ঠিক কী কারণে সেখানকার আলো জ্বলছে না তা তিনি জানাতে পারেননি।

মন্তব্য