kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পাহাড় কেটে সাবাড় ধস আতঙ্ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাহাড় কেটে সাবাড় ধস আতঙ্ক

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে অবাধে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালীচক্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনায় পাহাড় কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালীচক্র। ফলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাহাড় সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে দিনারপুর অঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে বসেছে। এতে হতাশা দেখা দিয়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে। তা ছাড়া অবাধে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় পাহাড়খেকোদের খুঁটির জোর নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে কালের কণ্ঠে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে হাইকোর্টে রিটের কারণে পাহাড় কাটা কিছুদিন বন্ধ ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে। গত ১০-১২ দিন ধরে গনজাইপুর ইউনিয়নের রামলোহ এলাকার একটি টিলা থেকে অবাধে মাটি কেটে তা বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে পাহাড়খেকোরা নির্দ্বিধায় মাটি কেটে চলছে।

গজনাইপুর ছাড়াও নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া, পানিউমদা, বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট, পুঁটিজুড়িতে পাহাড় ও পাহাড়ি গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। পরে সেখানে জনবসতি স্থাপন করা হচ্ছে।

পাহাড় কেটে খাদ সৃষ্টির কারণে প্রতি বছর বর্ষাকালে পাহাড় ধসে অনেক মানুষ মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ধস আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে নির্বিচারে পাহাড়ি গাছ কাটায় জলবায়ু, পরিবেশ, মাটি, পানি ও প্রাণিবৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউন গণি ওসমানী বলেন, পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে স্থানীয় তহশিলদারকে সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যারা মাটি কেটে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘গণমাধ্যমে দিনারপুর অঞ্চলের পাহাড় কাটার সংবাদ দেখে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলে দিয়েছি।’

মন্তব্য