kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ভাঙনের মুখে বিদ্যালয় ভবন

নড়াইলে ঝুঁকিতে বেশ কয়েকটি

সাইফুল ইসলাম তুহিন, নড়াইল   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাঙনের মুখে বিদ্যালয় ভবন

নড়াইলের লোহগড়ার ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মধুমতী নদীর ভাঙনের মুখে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক বছরে নড়াইলের মধুমতী নদীর ভাঙনে তীরবর্তী বেশ কিছু বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি নদীতীরবর্তী বিদ্যালয় রক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে। তবে ধীরগতি আর সময়ক্ষেপণের কারণে এবারের বর্ষায়ও ঝুঁকিতে রয়েছে নড়াইলের লোহগড়া উপজেলার ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এরই মধ্যে বিদ্যালয়টির কিছু অংশ ভাঙনের শিকার হয়েছে। আরো কয়েকটি বিদ্যালয়ও হুমকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, মধুমতীপারের ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কিছু অংশ ভাঙনের কবলে পড়ায় কর্তৃপক্ষ একটি কক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় তিন কক্ষের বিদ্যালয়টির একটি কক্ষে চলছে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস, শিশু শ্রেণির ক্লাস চলছে বারান্দায়। এরই মধ্যে এর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আঁখি মণি বলে, ‘আমাদের ক্লাসটি নদীর মধ্যে চলে যাওয়ায় আমরা এখন অন্য রুমে ক্লাস করছি। কখন আমাদের পুরো বিদ্যালয়টি নদীর মধ্যে চলে যায় সেই ভয়ে আছি।’

শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ক্লাস নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সমীর মল্লিক বলেন, ‘আমাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। এটিই কয়েক গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় বন্ধ করে দিলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।’

প্রধান শিক্ষক নাসরিন পারভীন জানান, বিদ্যালয়টি নদীর মাইলখানেক দূরেই ছিল। গত বছরের ভাঙনের পর বিদ্যালয়টির একাংশ দেবে গেছে। ওই ক্লাসটি বন্ধ করে অন্য দুটি কক্ষে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

প্রায় ৪০ বছর ধরে মধুমতীর তেলকাড়া, করগাতী, ধলইতলাসহ ১০টি গ্রাম ভাঙনকবলিত। এরই মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়, শত শত বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মধুমতী নদীর ভাঙনে প্রায় ২০টি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তেলকাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানেও বর্ষায় হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে সমস্যা হয় শিক্ষার্থীদের। সাড়ে তিন শ থেকে কমে এখন ছাত্র-ছাত্রী দেড় শ।

করগাতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় এখন এই ফাঁকা মাঠের মধ্যে আমরা বিদ্যালয় করছি। এখানে বৃষ্টি হলেই পানি জমে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তেলকাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বায়েজিদ বিল্লাহ বলেন, ৪০ বছর ধরে আমাদের এই এলাকা ভাঙছে, অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সরকারি কোনো মহল কখনো খোঁজ নিতে আসেনি।’

সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা নদীভাঙনকবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় বিদ্যালয় রক্ষায় কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ভূতিয়ার বিল ও বর্ণাল-সলিমপুর কোলাবাসুখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতাভুক্ত ঘাঘা পয়েন্টে পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১০ মিটার এবং পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার এলাকা স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে শুরু হয়ে আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

এই কাজে ৫৫ হাজার জিও ব্যাগ এবং লক্ষাধিক ব্লক ফেলার কথা থাকলেও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয় এপ্রিলে। তিন মাস পর শুরুর কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে ভাঙন রক্ষায় বাঁধ কোনো কাজে আসছে না।

এই দুটি কাজে কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মশিউর রহমান চৌধুরীর লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছেন স্থানীয় ঠিকাদার তারিক হাসান। তিনি বলেন, কাজ শুরুর পর পাউবো কর্তৃপক্ষ বিনা কারণে ১৩ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল করে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে স্বীকার করেন তিনি।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেরিতে কাজ শুরু করেছে। নিয়ম অনুযায়ী তৈরি না করায় কয়েক হাজার জিও ব্যাগ বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের চিঠিও দেওয়া হয়। ঠিকমতো কাজ না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য