kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রাজশাহী

পথে পথে চাঁদার হাট

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথে পথে চাঁদার হাট

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতের ঘটনা। রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া আমচত্বর এলাকায় লাঠি হাতে নিয়ে ট্রাক থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাজশাহী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক শামীম হোসেন। এই ঘটনার পরও সেখানে চাঁদা আদায় থামেনি। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা ট্রাক শ্রমিকরা সেখানে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থেকে চাঁদা আদায় করে। এই দৃশ্য শুধু নগরীর নওদাপাড়া আমচত্বরেই নয়, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, হিউম্যান হলার শ্রমিক ইউনিয়ন, পৌরসভার নামে স্থানীয় মাস্তানরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, ভটভটি, সিএনজি, হিউম্যান হলারসহ সাইকেল আর মোটরসাইকেল বাদে সব ধরনের যানবাহন থেকেই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর এসব অবৈধ যানবাহনও চাঁদার বিনিময়ে মহাসড়কে টিকে থাকছে। তাতে রাজশাহীর সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণহানিসহ সড়ক দুর্ঘটনা।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাস্তা থেকে এসব চাঁদা উঠছে। এর একটি ভাগও সংশ্লিষ্ট থানাসহ ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার পয়েন্টে পয়েন্টে চাঁদা তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি বাঘা পৌর সদর এলাকার স্কুল শিক্ষার্থীদের বহনকারী পিকনিকের দুটি বাসে চাঁদা দাবিতে ভাঙচুর করে পৌরসভার শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়। রাস্তায় চাঁদা উত্তোলন নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝামেলার খবর পাওয়া যায়।

রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের ছয়টি পয়েন্ট থেকে ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিটি ট্রাক থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। আবার নাটোরের বাসপাশ মোড়ে প্রতিটি ট্রাক থেকে আদায় করা হয় ১০০ টাকা করে। কয়েকটি পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়।

গত বৃহস্পতিবার নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০ জনের একটি দল লাঠি হাতে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন ট্রাক থেকে ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করছে। জানতে চাইলে হোসেন আলী নামের একজন শ্রমিক বলেন, এই টাকা ইউনিয়নের ফান্ডে জমা হয়। এখন পর্যন্ত কত টাকা জমেছে জানতে চাইলে তিনি এর জবাব দিতে রাজি হননি।

রাজশাহীর তালাইমারীতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ট্রাকপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে পুঠিয়ায় ৫০ টাকা এবং নাটোরে আদায় করা হয় ১০০ টাকা, নগরীর শিরোইলে বাফার সার গোডাউনের সামনে ৫০ টাকা এবং নওদাপাড়ায় আদায় করা হয় ৫০ টাকা করে। নগরীর রেলগেটে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা, কোর্ট এলাকায় হিউম্যান হলার থেকে ১০০ টাকা, কাটাখালীতে অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা, দুর্গাপুরে বাস-ট্রাক থেকে পৌরসভার নামে ১০-৫০ টাকা, পুঠিয়ায় ১০-৫০ টাকা, আড়ানী ও বাঘায় ১০-৫০ টাকা, ভবানীগঞ্জে ১০-১২ টাকা, তাহেরপুরে ১০-১০০ টাকা, মোহনপুরে ১০-২০ টাকা, তানোরে ১০-৫০ টাকা, গোদাগাড়ীতে ১০-২০ টাকা ও চারঘাটে ১০-২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি বলেন, বেশির ভাগ টাকা তোলা হয় ট্রাক মালিক-শ্রমিকের নামে। শুধু ৫০ টাকা করে তোলা হয় ট্রাক টার্মিনালের নামে। তাও যেসব ট্রাক রাজশাহীর বাইরে থেকে আসে শুধু সেগুলোর থেকেই আমরা চাঁদা তুলি।’

রাস্তায় অবৈধ যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও এর সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম।

মন্তব্য