kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

ঘাটাইলে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের গালা গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসংক্রান্ত অডিও রেকর্ডও ফাঁস হয়েছে।

তাই গত মঙ্গলবার নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নিয়োগপ্রক্রিয়ার আগেই তাঁদের পছন্দের প্রার্থী জেলার ভূঞাপুরের রুহুলী মাদরাসার শিক্ষক মো. ইব্রাহিম তালুকদারের সঙ্গে সাত লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইব্রাহিম প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘাটাইলের বীরসিংহ গ্রামের লিয়াকত আলীর মাধ্যমে এক লাখ টাকা জমাও দেন। পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক চেয়ে ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চার প্রার্থী আবেদন করেন এবং তাঁদের আবেদন বৈধ বলে বিবেচিত হয়। কিন্ত নিয়োগের আগেই টাকা লেনদেনের বিষয়টি জেনে যায় এলাকাবাসী। তাই তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন প্রধান শিক্ষক। পরে ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর ফের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন বিজ্ঞপ্তি দেখে আরো তিনজন আবেদন করলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে। অন্যদিকে নিয়োগ না পেয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে সেই এক লাখ টাকা ফেরত চান ইব্রাহিম। এ সময় ইব্রাহিমের লোকজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর (ইব্রাহিম) কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। পরে অডিও রেকর্ডটি ফাঁস হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করে এলাকাবাসী।

অভিযোগকারীদের পক্ষে গালা গ্রামের হুসাইন সারোয়ার বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যকে না জানিয়ে এককভাবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী বলেন, ‘টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিধি মোতাবেক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন চাওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার জন্য প্রাপ্ত আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে।’ আরেক অভিযুক্ত স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধের জন্য কমিটি (পরিষদ) বিরোধী একটি পক্ষ এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’

অন্যদিকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য