kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ইনস্যুরেন্স-ব্যাংকঋণ চায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা

দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশ আহরণ নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ-দুঃখ আছে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের। ট্রলার তৈরি, জাল কেনাসহ সব মিলিয়ে সর্বনিম্ন খরচ হয় ৫০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত। মৌসুমের শুরুতেই টাকার জন্য দাদনের আশায় ধরনা দিতে হয় মহাজন আর সুদি কারবারিদের কাছে। এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার জন্য ছুটতে হয় গভীর বঙ্গোপসাগরে। জেলেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার। অথচ সরকার জেলেদের সেই সম্পদ ও জীবন— কোনোটারই নিরাপত্তা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। 

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানায়, পাশের দেশ ভারতের সরকার প্রত্যেক জেলে ও ট্রলার মালিকের জন্য ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করেছে। কোনো জেলে বা ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয় সে দেশের সরকার। আর এ দেশের কোনো ব্যাংক সাগরে ফিশিং ট্রলারের বিপরীতে ঋণও (লোন) দেয় না। ইনস্যুরেন্স ও ব্যাংকঋণ পাওয়ার দাবিতে অচিরেই আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় মৎস্য আড়ত সূত্রে জানা যায়, শরণখোলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ফিশিং ট্রলার আছে। প্রত্যেক ট্রলার মৌসুমের পাঁচ মাসে গড় হিসাবে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ইলিশ আহরণ করে। তাতে শরণখোলা থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ইলিশ আহরণ ও বেচাকেনা হয়। আর এ ইলিশ খাত থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব জমা হয় সরকারের কোষাগারে। অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গভীর সাগর বাদে শুধু বলেশ্বর নদ, সুন্দরবন ও উপকূলের নদ-নদী থেকেই মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হয়। যার দাম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা।

ইলিশ আহরণ মৌসুম শুরু হতে বেশি দেরি নেই। এরপরই কর্মচঞ্চলতায় মেতে উঠবে শরণখোলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বিভিন্ন মৎস্য আড়ত ও জেলে পল্লীগুলো। তখন রুপালি ইলিশের ঝিলিকে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হবে সর্বত্র। সারা বছরই নদী-সাগরে ইলিশ ধরা হলেও মূলত প্রধান মৌসুম শুরু হয় ১৫ বৈশাখ থেকে। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন—এ পাঁচ মাস থাকে ইলিশের ভরা মৌসুম। এর আগেই সাগরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে জেলে-মহাজনদের। সেই লক্ষ্য নিয়েই এখন জাল-ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। ভরা মৌসুমে যাতে বরফ সংকট বা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক আছে মিল মালিকরাও। এরই মধ্যে ছোটখাটো ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদন উপযোগী করা হয়েছে বরফ কলগুলো। ইলিশ মৌসুমকে সামনে রেখে জেলেদের নিরাপত্তায় র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগেরও আছে বাড়তি প্রস্তুতি।

শরণখোলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, ‘সরকার জেলেদের আইডি কার্ড দিয়েছে। বিনা মূল্যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। তা ছাড়া তাদের জীবনমান উন্নয়নে অনেক প্রকল্প আছে সরকারের। তবে সমুদ্রগামী জেলেদের ইনস্যুরেন্স ও ব্যাংকঋণের দাবি যৌক্তিক। তাদের দাবির বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

অন্যদিকে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) অপারেশন অফিসার লে. মো. বায়জিদ বলেন, ‘সুন্দরবন ও উপকূল এলাকায় ১৪টি স্টেশনের কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও চালিয়ে থাকে। ইলিশ মৌসুমে বিশেষ নজরদারি থাকবে। তা ছাড়া আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

মন্তব্য