kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ভৈরব

খননের অভাবে বিলীনের পথে শত বছরের পাঁচ নদী

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বছরের পর বছর ধরে পলি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে ভৈরবের মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি, কালিনদী ও কোদালকাটি নদী। এসব নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। বন্ধ রয়েছে নৌযান চলাচলও। বছরছয়েক আগেও এসব নদীর দুই পারে হাজার হাজার কৃষক নদীর পানি দিয়ে শত শত হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করত। ছোট-বড় নানা জাতের মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল নদীগুলো। এখন যৌবন হারিয়ে নদীগুলো যেন পরিণত হয়েছে মরা খালে। দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নদীগুলোর অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে।

অতীতে নদীগুলোকে ঘিরে নদীর পারে গড়ে উঠেছিল অনেক জনপদ ও হাট-বাজার। নদীকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক মানুষ খুঁজে পেয়েছিল জীবন-জীবিকার পথ। তবে যথাসময়ে খননের অভাবে শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোতে মাছ ধরতে না পেরে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় জেলেরা। আর এভাবেই নদীপারের জমজমাট হাট-বাজারের সেই চিত্র পাল্টে স্থবির হয়ে পড়েছে নদীকেন্দ্রিক লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। ভৈরবের মানচিত্র থেকে দিনে দিনে মুছে যাচ্ছে এসব নদীর নাম। ছোট-বড় নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাছের প্রধান উৎস এসব নদী এখন যেন কালের সাক্ষী!

এদিকে বিভিন্ন নদীতে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এর আগে স্থাপিত সেচ যন্ত্রগুলোও এখন পানির সংকটে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সেচ যন্ত্রের আওতাধীন বোরো জমিগুলোও পানির অভাবে খাঁ খাঁ করে। তবে প্রতিকারস্বরূপ ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গত বছর ভৈরবে কটিয়াদি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। তবে বর্তমানে ভৈরব জগন্নাথপুর, লক্ষ্মীপুর, গাজীরটেক ও কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এই নদ প্রায় পানিশূন্য। আর তাই কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে খননের অভাবে সুবিশাল মেঘনার আশুগঞ্জ ও ভৈরবের মাঝামাঝিতে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে চর জেগে উঠেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে চর সোনারামপুর। অন্যদিকে মেঘনা নদীর ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মেন্দীপুর থেকে প্রবাহিত হয়েছে কালিনদী। নদীটির সাদেকপুর, রসুলপুর, মানিকদি অংশে বালুর চর জমেছে। আবার ওই চরের কিছু অংশে বোরোর আবাদ হয়েছে। বলতে গেলে শত বছরের কালিনদী এখন প্রায় মৃত। একই চিত্র ভৈরবের শীতলপাটি ও কোদালকাটি নদীর।

এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন বলেন, ‘ভৈরবের কালিনদী, কোদালকাটি ও শীতলপাটি নদীর নাব্যতা যাতে বজায় থাকে সে ব্যাপারে অচিরেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য