kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

শহর নয়, তীর রক্ষা

নাটোরে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহর নয়, তীর রক্ষা

নাটোরের সিংড়া পৌর শহরে তীর সংরক্ষণের জন্য আত্রাই নদীর পুরনো বাঁধের ওপর মাটি ফেলে দেওয়া হচ্ছে ব্লক। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়া পৌর শহরে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ। কিন্তু এ প্রকল্প বন্যা মোকাবেলায় কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করছে এলাকাবাসী। কারণ সামান্য বন্যা হলেই তীর উপচে পড়া পানিতে আশপাশের এলাকা তলিয়ে যাবে। তাই তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের চেয়ে এখানে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় লোকজন। 

জানা যায়, আত্রাই নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় ২০১৭ সালে পানি ঢুকে সিংড়া পৌর শহরের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। বন্যার হাত থেকে পৌরবাসীকে রক্ষা করতে ওই বছরই শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে এখন তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। পুরনো বাঁধের ওপর শুধু মাটি ফেলে দেওয়া হচ্ছে ব্লক। এতে আগামী বর্ষা মৌসুমে আবারও তীর উপচে পড়া পানিতে শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী মানুষ।

শহর রক্ষা বাঁধের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সিংড়া পৌর শহরের গোডাউন পাড়াসংলগ্ন আত্রাই নদীর পারে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আত্রাই নদীর বন্যা থেকে রক্ষা পেতে একটি শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের দীর্ঘ দিনের দাবি সিংড়াবাসীর। সে লক্ষ্যে ২০১৭ সালে সিংড়া দহপার থেকে শহরবাড়ী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেড় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। কাজটি পায় রাজশাহীর এবি কনস্ট্রাকশনসহ দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নিংগইন এলাকায় বাঁধের ব্লক তৈরির কাজ শেষ করে তীর সংরক্ষণের কাজ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে এই তীর সংরক্ষণকাজ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের কাজের প্রতিবাদ করছে শত শত নারী-পুরুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের পরিবর্তে তীর সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই বাঁধ তাদের ঘর-বাড়ি রক্ষায় কোনো কাজে আসবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এটা কোনো শহর প্রতিরক্ষার বাঁধ হচ্ছে না, বরং শহর ভাঙার বাঁধ হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ঘোষণা অনুযায়ী বাঁধের কাজ না হলে সিংড়া শহরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’ তাই এ বিষয়ে স্থানীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় গৃহিণী শেফালী বেগম বলেন, নদীর পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন তাঁরা। তবে যেভাবে তাঁদের কাটা মাটি নদীতে নামিয়ে বাঁধ নির্মাণ চলছে তাতে এলাবাসীর অসুবিধা বেড়ে যাবে। তীর সংরক্ষণ করতে গিয়ে নদীর তীর থেকেই মাটি কাটা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স এবি কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আবুল কালাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আমরা তো আর নিয়মের বাইরে যেতে পারব না।’

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁর আগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিলেন। এখন তিনি কেবল কাজটি দেখভাল করছেন। তিনি বলেন, ‘তবে শহর প্রতিরক্ষার নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই কাজটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

মন্তব্য