kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ঘিওরে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

ছেলেসহ আটক ইউপি সদস্য

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুড়ি গ্রামে গতকাল শুক্রবার ভোরে সর্বজনীন কালীবাড়ী মন্দিরে মূর্তি ভাঙচুর ও ধর্মীয় ছবি পোড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার আসামি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আক্কাস আলী ও তাঁর ছেলে মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মন্দির কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদী গৌড় চন্দ্র দত্ত বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মন্দিরে নামকীর্ত্তন হয়। ভোরে এসে তাঁরা দেখেন, কয়েকটি মূর্তি ভাঙা অবস্থায় ও ধর্মীয় ছবি পোড়ানোর ছাই পড়ে রয়েছে।

গৌড় চন্দ্র দত্ত জানান, মন্দিরের ৬ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে ইউপি সদস্য আক্কাস আলীর ছেলে মামুনের সঙ্গে মন্দির কমিটির বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। বছরখানেক আগে একটি মামলায় আদালত মন্দিরের পক্ষে রায় দেন। তার পরও ওই জমি দখল নেওয়ার জন্য মামুন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন গৌড় চন্দ্র।

তবে আক্কাস আলী ও মামুন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন বলে দাবি করেন। তাঁরা বলেন, ষড়যন্ত্র করে তাঁদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলম জানান, ঘটনার জানার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউপি সদস্য আক্কাস ও তাঁর ছেলে মামুনকে আটক করা হয়েছিল। মামলা হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। ওসি বলেন, বিষয়টি তদন্তের পরই সব কিছু পরিষ্কার হবে।

এদিকে গতকাল বিকেলে ঘটনার প্রতিবাদে সিংজুড়ি বাজার মাঠে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। সিংজুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মনজুর আহমেদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবুল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

মন্তব্য