kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

শ্রীনগরে সক্রিয় হাতকড়াচক্র

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে র‌্যাব-পুলিশের বাইরে হাতকড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এরা কারা? বিষয়টি এখন উপজেলার সর্বত্র আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, এরা শক্তিশালী প্রতারকচক্রের সদস্য। র‌্যাব-পুলিশ বা মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দিয়ে চক্রটি উপজেলার সর্বত্র একের পর এক প্রতারণা করে যাচ্ছে। চক্রটির ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও শ্রীনগর থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই চক্রের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে ৮-১০ জন একসঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে বা কাউকে অভিযোগকারী বানিয়ে জমি দখল, পাওনা টাকা তোলা, হুন্ডি ব্যবসা, বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে চক্রটি নিরীহ লোকজনের বাড়িতে হাজির হয়ে নিজেদের র‌্যাব-পুলিশ বা মানবাধিকারের লোক পরিচয় দিয়ে হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখায়। এ সময় ওই দলেরই একজন দূতিয়ালির ভূমিকা নিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার পরিমাণ কখনো লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে বাড়ির লোকজন তা দিতে অস্বীকার করলে যা পায়, তা নিয়েই দ্রুত কেটে পড়ে তারা। উপজেলার সর্বত্র এ চক্রের দৌরা@ে@@@্য সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, চক্রটির মূল হোতা উপজেলার ষোলঘর বাজারের দেলোয়ার ম্যানসনের নাম-পরিচয়হীন একটি সংগঠনের কর্তাব্যক্তি আনোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, বাবু, শফিক ও তাদের কয়েকজন সঙ্গী। এ চক্রের বিরুদ্ধে গত ১৩ মে সিংপাড়া গ্রামের প্রবাসী আবদুর রহিমের স্ত্রী নাছিমা বেগম মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। তাতে বলা হয়, সম্প্রতি চক্রটির সদস্যরা তাঁর বাড়ির অর্ধশতাধিক মেহগনি ও ইউক্যালিপটাসের চারা গাছ কেটে সেখানে একটি ছাপরা ঘর তুলে একজনকে দখল বুঝিয়ে দেয়। প্রথমে ভয় পেলেও পরে নাছিমা বেগম চক্রটির এ কর্মকাণ্ডের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন এবং তা পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার শ্রীনগর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

গত ১৮ মে বিকেলে চক্রটির হোতা আনোয়ারসহ তিন-চারজন সদস্য সালেপুর গ্রামের আতাহার শেখের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের আইনের লোক ও মানবাধিকারকর্মী বলে দাবি করে। এ সময় আতাহারের স্ত্রী আলেয়া বেগমকে বাড়িতে একা পেয়ে তারা হুমকি দিয়ে বলে, 'তোর ছেলে সোহেল আশুলিয়ায় বিয়ে করেছে। সেই স্ত্রী আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে।' তাঁর স্বামী ও ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে তারা আলেয়া বেগমের কাছ থেকে চার হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে আসে এবং বাকি টাকা এক দিনের মধ্যে তাদের ষোলঘরের অফিসে পৌঁছে দিতে বলে। নইলে তাঁর স্বামী-সন্তানের শেষ রক্ষা হবে না বলে শাসিয়ে আসে। পরদিন চক্রটির বিরুদ্ধে আতাহার শ্রীনগর থানায় চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ জানান।

ওই চক্র ছাড়াও উপজেলার মাশুরগাঁও ফেরিঘাট ও ষোলঘর হাসপাতাল এলাকায় এমন আরো দুটি প্রতারকচক্র রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব চক্রের দলে স্মার্ট একাধিক নারী সদস্যও রয়েছে। তারা কোনো মেয়ের বিয়ের দিন প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাউকে না জানিয়ে বিয়েবাড়ি গিয়ে বাল্যবিয়ের অজুহাত এনে তা বন্ধের জন্য চাপ দেয়। পরে তারা বিয়েবাড়িতে ফাও খেয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার তাঁদের নেই।

শ্রীনগর সার্কেলের এএসপি শামসুজ্জামান জানান, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শ্রীনগর থানার ওসি মুজিবুর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য