kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

রসাল চায়না লিচু

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রসাল চায়না লিচু

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাগানে এমন রসাল লিচু মেলে। ছবি : কালের কণ্ঠ

লাল রসাল লিচু আশা জাগাচ্ছে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চাষিদের মনে। দেশি বিভিন্ন জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, চায়না, বারি জাতের লিচুতে এখন বাজার সয়লাব। বাগানে বাগানে চলছে লিচু ভাঙা ও বিপণনের ধুম। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখের হাসির পাশাপাশি দাম নাগালে থাকায় ক্রেতারাও রয়েছেন স্বস্তিতে। পাবনার চাষিরা এবার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে সবাই প্রত্যাশা করছেন।

গত প্রায় দেড় দশক ধরে পাবনার ঈশ্বরদী ও পাশের এলাকায় লিচু চাষ বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। উপজেলার জয়নগর, মিরকামারী, চরমিরকামারী, রূপপুর, বড়ইচড়া, শিমুল চড়া, বক্তারপুর, বাঁশেরবাদা, ছলিমপুর, বিবিসি বাজার, জিগাতলাসহ আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় লিচুর বাগান। সম্প্রতি ঈশ্বরদীর বাইরে লিচুর আবাদ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর, দাপুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলার ২৫ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর বাইরে জেলার অন্যান্য স্থানে মোট ৩৪ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে চাষিরা লিচুর আবাদ করেছেন। মৌসুম শেষে এখন লিচু চাষিরা ব্যস্ত গাছ থেকে ফল পেড়ে তা বাজারজাতকরণে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন বাগান থেকে লিচু চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। পাবনার বাজারে বারী ১ জাতটি প্রতি হাজার দুই হাজার টাকা, বোম্বাই আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা এবং চায়না ৩ প্রতি হাজার চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই দিন ঈশ্বরদীর বিভিন্ন লিচু বাগান পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, ট্রাকভর্তি লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। জয়নগরের একটি বাগানে কথা বলার সময় মুন্সীগঞ্জ থেকে লিচু কিনতে আসা আড়তদার দুলাল মিয়া বলেন, 'ঈশ্বরদীর লিচু খুব রসাল আর সুস্বাদু হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সে কারণে প্রতিবছর লিচু মৌসুমে আমি ঈশ্বরদীতেই পড়ে থাকি। প্রায় প্রতিদিন ট্রাকে লিচু কিনে আড়তে পাঠিয়ে দিই।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, 'এবার পাবনায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছেন বা পাবেন। পাবনার চাষিরা এবার ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার মতো লিচু বিক্রি করতে পারবেন।'

সম্প্রতি রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের এক দল বিশেষজ্ঞ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন লিচু বাগান পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, 'এ বছর আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল। এপ্রিল মাসে থেমে থেমে কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ঈশ্বরদীতে বোম্বাই, চায়না ৩ ও বারী ১ জাতের যে লিচু হয়েছে তা খুব উন্নতমানের। আগাম জাতের হওয়ায় বারী ১ জাতের লিচু বাজারে আগে এসেছে। এখন আসতে শুরু করেছে চায়না ৩ আর বোম্বাই জাতটি। এই তিন জাতের মধ্যে চায়না ৩ সবচেয়ে সুস্বাদু এবং এর ভক্ষণযোগ্য অংশও বেশি।'

 

মন্তব্য