kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

আন্তনগর ট্রেনের দাবি উপেক্ষিতই রইল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের সরাসরি আন্তনগর ট্রেনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে উপেক্ষিতই রইল। রেলপথ ও রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হলেও একটি 'বাইপাস' জটিলতায় আটকে আছে আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস। চার বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে- জেলাবাসীর এমন প্রত্যাশা থাকলেও গত শনিবারের জনসভায় এ নিয়ে কেউ কথা বলেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলের শেষ প্রান্ত সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর ঢাকা যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবসহ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য বহু বছর ধরে সরাসরি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জেলার সর্বস্তরের মানুষের। এটিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রধানতম দাবি হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বহুবার সমাবেশ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর ওই দাবির মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে রাজশাহী-রহনপুর সীমান্ত ও আমনুরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প নামে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০০৭ সালে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী থেকে রহনপুর ও আমনুরা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত সাত কিলোমিটার লুপ লাইনসহ ৯২ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কারকাজ করা হয়। সঙ্গে রেলস্টেশনগুলোও আধুনিকায়ন হয়। তাতে ব্যয় হয় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

২০১১ সালে রেল সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ চলাকালে ২৩ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করার। এরপর মূল প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ শেষের মাথায় ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তনগর শাটল ট্রেনের উদ্বোধন করেন। ওই দিন থেকে শাটল ট্রেনটি আন্তনগর ট্রেনের সংযোগ ট্রেন হিসেবে কাজ করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগরের টিকিট কাটা যাত্রীরা শাটল ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে আন্তনগর ট্রেনের নির্ধারিত আসনে ঢাকা যাচ্ছে।

যাত্রীরা জানায়, শাটল ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে ট্রেন পরিবর্তন করতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। পৌর এলাকার পোল্লাডাঙ্গা গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, শাটল ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে তাও নির্ধারিত ট্রেন পাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসার সময় নেমে যেতে হয় রাজশাহীতে। তখন অন্য ট্রেনের জন্য বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। না হয় যেতে হয় বাসে। এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিজন নিয়ে স্টেশনে বসে থাকা বা বাসের জন্য স্টেশনে ছুটে যাওয়া বেশ কষ্টের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান বলেন, এখানে আন্তনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা প্রচুর। কম টিকিটে বেশি যাত্রী ম্যানেজ করতে হিমশিম খেতে হয়। যাত্রীদের সন্তুষ্ট রাখতে প্রায় সময় রাজশাহী থেকে টিকিট ম্যানেজ করতে হয়। তিনি জানান, এ বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৪০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালের মূল প্রকল্পে আমনুরা জংশনে বাইপাস রেলপথ নির্মাণ স্থান না পাওয়ায় জটিলতার মুখে পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরাসরি আন্তনগর ট্রেন। সূত্রমতে, মাঝখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক আমনুরা রেলস্টেশন সংলগ্ন বাইপাস রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানে বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু রেল বিভাগের বিরোধিতায় বিদ্যুৎ প্লান্টটি অন্যত্র স্থাপন করা হয়।

রেলের ওই সূত্র জানিয়েছে, আমনুরায় একটি বাইপাস রেলপথ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে একটি ওয়াশমিট ও ট্রেন এক্সামিনার (টিএক্সআর) কার্যালয় স্থাপন করা হলেও জটিলতা কেটে যাবে সরাসরি আন্তনগর ট্রেনের। ওয়াশমিট ও টিএক্সআর কার্যালয় স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে।

জনসভায় যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষ জানিয়েছে, সরকারি কলেজ মাঠের প্রধানমন্ত্রীর ওই জনসভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডজনখানেক নেতা বক্তব্য দেন। কিন্তু কারো বক্তব্যেই আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবির বিষয়টি উঠে আসেনি। ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশ কিছু নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিটি কেউ মনে করিয়ে না দেওয়ায় তা বাস্তবায়নের সুফল থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হলো।

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদ বাইপাস রেলপথের জটিলতায় আন্তনগর ট্রেন আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, তাই জটিলতা কাটিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সরাসরি আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে।

 

মন্তব্য