kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

হায়দারগঞ্জ থেকে রায়পুর সড়ক

গাড়ি চলে হেলেদুলে

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ ঢালাই। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকে। যানবাহন চলে অনেকটা হেলেদুলে। এতে ১১ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। দুর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় মানুষকে। দুর্ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-হায়দারগঞ্জ সড়কের এ অবস্থা।

হায়দারগঞ্জ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল হক জানান, হায়দারগঞ্জ বাজার রায়পুর উপজেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। এ বাজারে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কম্পানির লোকজন সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার জন্য আসেন। অথচ বাজারের একমাত্র সড়কে খানাখন্দের কারণে ছাত্রছাত্রীসহ লক্ষাধিক মানুষ পাঁচ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছয়-সাত বছর আগে রায়পুর-হায়দারগঞ্জ সড়কটি মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডারের পর কাজটি দুই-তিনজন ঠিকাদারের হাত বদল হয়। বেচাকেনা হতে হতে দরপত্রের টাকার একটি অংশ চলে যায় ঠিকাদারদের পকেটে। এতে সড়ক সংস্কার হলেও কাজের মান ঠিক হয়নি। এক-দুই বছর পরই নষ্ট হয়ে যায় সড়কটি।

চর আবাবিল গ্রামের সজীব হাওলাদার বলেন, হায়দারগঞ্জ বাজার থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। কিন্তু বাজারে আসার রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। খারাপ রাস্তায় রিকশা ভাড়া গুণতে হয় দ্বিগুণ। গাড়ি চলে হেলেদুলে। সময় লেগে যায় এক ঘণ্টা।

ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, সড়কটি ভাঙাচোরা থাকার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায়ই অটোরিকশা-রিকশা গর্তে উল্টে পড়ে। অনেককে জখম হতে দেখা যায়।

হায়দরগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদউল্যা জানান, সড়কের সিলকোট ও ইটের খোয়া ওঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টি হলে অনেক গর্তে হাঁটুসমান পানি জমে। পথ চলতে গিয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য ঢাকার প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। অর্থ বরাদ্দ পেলে সড়ক সংস্কার করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী অর্থবছরে কাজটি করা হবে।'

 

মন্তব্য