kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

জাবিতে যৌন হয়রানির বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

জাবি প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে 'নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে অর্থনীতি বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের ছাত্রী মায়মুনা বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হল মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান। এমন জায়গায় পহেলা বৈশাখের মতো অনুষ্ঠানে যদি এ ঘটনা ঘটে তা অবশ্যই লজ্জাজনক। এখানে যৌন নিপীড়নই বা কেন ঘটবে আর এর বিচারের দাবিতে কেন আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে?'

ইংরেজি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের ছাত্র সাদ আশরাফ বলেন, 'একটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আর ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে প্রশাসন টালবাহানা করছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসন বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।'

এ সময় অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি আরো বড় আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, বর্ষবরণের রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আদিবাসী এক ছাত্রী ছাত্রলীগকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির পাশাপাশি মারধর ও টাকা-মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হন। ১৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গীর মোড় এলাকার লেকের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৬ এপ্রিল প্রক্টর অফিসে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থীকে তদন্ত চলাকালে সময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতরা হলো নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় (সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ৪২তম আবর্তন), নাফিস ইমতিয়াজ (রসায়ন, ৪২তম আবর্তন), আব্দুর রহমান ইফতি (নৃবিজ্ঞান, ৪৩তম আবর্তন), রাকিব হাসান (ভূগোল ও পরিবেশ, ৪৩তম আবর্তন) ও নুরুল কবির (নৃবিজ্ঞান, ৪৩তম আবর্তন), অর্ণপ দত্ত (রসায়ন, ৪৩তম আবর্তন), আশরাফুল ইসলাম (ইতিহাস, ৪৩তম আবর্তন) ও বিকাশ কুমার মহন্ত (প্রাণিবিদ্যা, ৪৩তম আবর্তন)।

বহিষ্কৃত সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাদের প্রথম পাঁচজনকে ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

মন্তব্য