kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

পুলিশি হয়রানিতে ২৫ কাউন্সিলর

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশি হয়রানিতে ২৫ কাউন্সিলর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ২৫ জন আত্মগোপনে রয়েছেন। চলতি হরতাল-অবরোধে নাশকতার অভিযোগে তাঁদের প্রত্যেককে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ দফায় দফায় বাসায় হানা দিচ্ছে, না পেয়ে স্বজনদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি কারো কারো স্বজনকে ধরে এনে থানায় আটকে রাখারও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান জেনে গ্রেপ্তারের ভয়ে পলাতক বেশির ভাগ কাউন্সিলর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। কাউন্সিলররা এলাকায় না থাকায় নাগরিকরা সেবা পাচ্ছেন না। আটকে গেছে এলাকার উন্নয়ন কাজ, সিটি করপোরেশনের কাজকর্মে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

গ্রেপ্তার ও রিমান্ড এড়াতে কাউন্সিলররা আত্মগোপনে রয়েছেন। গোপন সূত্রের মাধ্যমে এ প্রতিবেদক তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের একজন কাউলতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তানভীর আহাম্মদ। তিনি জানান, মেয়র মান্নানসহ বিএনপি সমর্থিত সব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, পুড়িয়ে যাত্রী হত্যাসহ ভাঙচুরের মামলা দেওয়া হয়েছে। দুই থেকে পাঁচটিও পর্যন্ত মামলা হয়েছে কারো কারো নামে। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর বাসায় একাধিকবার হানা দিয়েছে পুলিশ। আত্মীয়দের হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি রাতে তাঁর বাসায় গিয়ে ছোট ভাই সোহেল রানা ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে জয়দেবপুর থানার পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন বিকেলে শাশুড়িকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ছোট ভাইকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তানভীর আরো বলেন, 'ছোট ভাই সরকারি চাকরি করেন, কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। অন্যদিকে শাশুড়ি আমার খালি বাসা দেখাশোনা করতেন। এসব বললেও পুলিশ শোনেনি।'

২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহাবুবুর রশীদ খান শিপু বলেন, 'ইতিমধ্যে ঢাকার বাসা থেকে মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান, ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক চৌধুরী ও যুবদল নেতা সবদের হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেয়র মান্নান ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি পছন্দ করেন না। তার পরও তাঁকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কোন সাহসে এলাকায় থাকি?'

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রমিকদল নেতা ফয়সাল সরকার জানান, কাউন্সিলরদের অনেকেই বিএনপি সমর্থিত হলেও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার পরও নাশকতার মামলা হলেই গড় হারে আসামি করা হচ্ছে। নাগরিকদের জন্ম, মৃত্যু, ওয়ারিশান ও নাগরিক সনদ কাউন্সিলররা দেন। তা ছাড়া পাসপোর্ট আবেদন সত্যায়নসহ নানা কাজ কাউন্সিলরদের করতে হয়। তাঁরা আত্মগোপনে থাকায় নাগরিকরা এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে বর্ষাকাল। সময়মতো কাজ করতে না পারলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

একই কথা জানান পলাতক ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদী হাসান সরকার, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজমল হোসেন ভূঁইয়া ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের খায়রুল আলমসহ অনেকে।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাহারুল ইসলাম মোল্লা বলেন, 'গ্রেপ্তার ও রিমান্ড আতঙ্কে বাসায় থাকতে পারছি না। বাড়িতে না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাসায় হানা দিচ্ছে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এলাকায় না থাকলেও প্রতিটি মামলায় আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা অবস্থায়ও কেউ কেউ আসামি হয়েছেন।'

১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো. আবদুস সালাম আহম্মেদ আব্বাস বলেন, 'গত জানুয়ারির মাঝামাঝি পুবাইলের মীরের বাজারে একটি পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ কাউন্সিলরের নামে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ঘটনাস্থল আমার এলাকা কাশিমপুরের সুরাবারি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। মহানগরীর বাসিন্দা হলেও আমি কখনো ওই এলাকায় যাইনি। তার পরও আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। একটি পিকআপ ভাঙতে কি ১৯ জন কাউন্সিলর লাগে? শুধু হয়রানির জন্য এ মামলায় কাউন্সিলরদের আসামি করা হয়েছে।'

এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তার পরও কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হলে তদন্ত করে অভিযোগপত্র থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য