kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ভালুকায় ঝড়ের পর বৃষ্টি

'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা'

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝড়ের পর বৃষ্টি ভুক্তভোগীদের জন্য 'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি এখনো মেরামত করতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্তরা। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বৃষ্টি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পরপর তিন রাতে ভালুকা পৌরসভাসহ উপজেলার উথুরা, মেদুয়ারী, ভরাডোবা, ধীতপুর, বিরুনীয়া, ভালুকা, মলি্লকবাড়ী, ডাকাতিয়া কাচিনা, হবিরবাড়ী ও রাজৈ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী। এতে উড়ে গেছে একটি জুনিয়র হাই স্কুলসহ পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ। অনেক গাছের ডালপালাও ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ফসলের। ঝড়ে খুঁটি ভেঙে, তার ছিঁড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে স্থানীয় পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, ঝড়ে বসতঘর উড়ে যাওয়ায় বা ভেঙে পড়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে বেশ কিছু দরিদ্র পরিবার। ঝড়ের পর প্রতিরাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। আর এই বৃষ্টি ঝড়ে ঘর হারানোদের জন্য নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পুরুড়া গ্রামের সালাউদ্দিন ফকীর জানান, মঙ্গলবার রাতের ঝড় তাঁর রান্নাঘরসহ তিনটি বসতঘর উড়িয়ে নিয়ে তাঁকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। হাতে টাকা না থাকায় ঘরগুলো কিভাবে মেরামত করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্থির তিনি। এর ওপর প্রায় প্রতি রাতের বৃষ্টি তাঁর পরিবারের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

ভরাডোবা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে দিনমজুর রাতুল বলেন, 'হারা দিন কাম কইরা পেট চালাই। তুফানে আমার গরডা বাইঙ্গা হালছে। অহন কাম কইরা, পেড চালাম, না গর তুলাম। হের পরে, রাইত অইলেই মেগ আইয়ে, তহন কি যে কষ্ট, আল্লা ছাড়া আর কেউ জানে না।'

ভরাডোবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম তরফদার কালের কণ্ঠকে জানান, মঙ্গলবার রাতের ঝড়ে তাঁর ইউনিয়নে একটি জুনিয়র হাই স্কুলসহ প্রায় ২০০ ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের পর বৃষ্টি গৃহহীন পরিবারগুলোকে আরো বেকায়দায় ফেলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল আহসান তালুকদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেওয়ান নুরুল হুদা।

 

মন্তব্য