kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

'এমন চেয়ারম্যান চাই না'

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাম্প্রতিক অনৈতিক ঘটনায় নিন্দিত-সমালোচিত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মসূয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিষদ অফিসে ঢুকতে দেয়নি এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা পরিষদ এলাকা অবরোধ করে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চেয়ারম্যান পরিষদে যাবেন বলে বুধবার রাতেই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সকাল থেকে স্থানীয় কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে বেতাল বাজারের মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারী শামীম আহমেদ জানান, জনগণ এতটাই ক্ষুব্ধ যে চেয়ারম্যান পরিষদে গেলে অপমানিত হয়ে ফিরতেন। তিনি আরো জানান, বুধবার বেতাল বাজারে লোকজনের সঙ্গে করমর্দন করতে গেলে ঘৃণায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কেউ হাত মেলায়নি।

এলাকাবাসী জানায়, এক নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকরের অনৈতিক ভিডিওচিত্র স্থানীয় যুবকদের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা গত ১৫ মার্চ মাইকিং করে বেতাল বাজারের মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ওই ঘটনার পর এলাকার স্থানীয় সিরাজুল হক প্রধান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে কটিয়াদী থানায় মামলা করেন। এর পরই চেয়ারম্যান গা ঢাকা দেন। প্রায় এক মাস ধরে তিনি পলাতক থাকায় পরিষদের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান আবু বকর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে মঙ্গলবার এলাকায় আসেন। সিরাজুল হক প্রধান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এমন খারাপ চরিত্রের চেয়ারম্যান আবার পরিষদে এসে বসুক, তা আমরা চাই না।'

চেয়ারম্যান আবু বকরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্ট থেকে তিনি চার সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন। তিনি প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে বলেন, এলাকার একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দিলে এলজিইডি মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

কটিয়াদী থানার ওসি হেদায়াতুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকাজ চলছে।

 

মন্তব্য