kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

নান্দাইলে টিআর-কাবিখা প্রকল্প আত্মসাত

৪৬ মামলা, ২৫ জনের নামে পরোয়ানা, ধরছে না পুলিশ

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪৬টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ মেট্রিক টন টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখার (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বরাদ্দ নেওয়ার পর কাজ না করে পুরো বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে। আর এ ঘটনায় সার্টিফিকেট মামলার পর মোট বরাদ্দের দিগুণ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ছাড়াও মামলা করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়।

দীর্ঘ তদন্তের পর বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৫ প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে জেনারেল সার্টিফিকেট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এসব পরোয়ানা তামিল করার জন্য নান্দাইল মডেল থানায় পাঠানো হলেও তা কার্যকর করছে না পুলিশ। একটি সূত্র জানায়, আত্মসাৎকৃত প্রকল্পের সভাপতিরা সরকারদলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মী। প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের ধরছে না পুলিশ।

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে দুই সরকারের আমলে ৪৬টি প্রকল্প দেওয়া হয় ১২টি ইউনিয়নে। আর এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে। ৪৬টি প্রকল্পের মধ্যে টিআর খাতের ৩৬টি প্রকল্পের ৫১.২৭৯ মেট্রিক টন এবং কাবিখার ১০টি প্রকল্পের ২৭.১০১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ ছিল। মামলা দায়েরের আগে পিআইও কার্যালয় থেকে আত্মসাৎকৃত বরাদ্দের দ্বিগুণ মূল্য ফেরত দিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে উলি্লখিত অর্থবছরগুলোর টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তালিকায় নিজেদের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে তাঁরা প্রকল্প কমিটির সভাপতি সেজে কাজ বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করে সরকারি বরাদ্দের ছাড়পত্র গ্রহণ করেন। কিন্তু বিগত সাতটি অর্থবছরে একাধিক পিআইও এ ধরনের ৪৬টি প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাৎ করার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের কাছে বরাদ্দ ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠান। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা কর্ণপাত না করে এসব চিঠির কোনো উত্তর দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, অনেক দিন আগে এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় এসেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা তামিল করছে না পুলিশ। যদি তামিল হতো তাহলে সরকার ওই সব প্রকল্পের দিগুণ ফেরত পেত। প্রকল্প আত্মসাতের ঘটনাও অনেকাংশে কমে যেত।

নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ বি এম সিরাজুল হক বলেন, এসব প্রকল্পে ছিল মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ মাঠ সংস্কার ছাড়াও কবর-শ্মশানে মাঠি ভরাট। তখনকার সময়ের বাজার ধরে মূল্য ছিল প্রায় ২০ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, 'নির্ধারিত ওয়ারেন্ট অফিসারদের কাছে এসব পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।'

সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাটিরচর নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার ঘটনা তদন্তে এলাকায় যান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে অসুস্থ শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন।

সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী সিদ্দিক জানান, ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুককে দুবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মো. নাঈম তার সহপাঠী শামীমের সঙ্গে ঝগড়া করার অপরাধে সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুক তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

 

মন্তব্য