kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

শুকনো ফলের পুষ্টি পাবেন যেভাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ১৯:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুকনো ফলের পুষ্টি পাবেন যেভাবে

স্বাস্থ্যকর খাবারের সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান হলো ফল। এটি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের মতো পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ। ফলে দৈনন্দিন খাবার থেকে এটি বাদ দেওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ফল অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে দ্বিগুণ কাজ করে। সুতরাং, পুষ্টি এবং স্বাদের ভিন্নতা পেতে এটি সকালের খাবারে যোগ করা যেতে পারে।

অন্যান্য খাবারের মতো ফলে কোনো নেতিবাচক দিক নেই। এতে পুষ্টির পাশাপাশি রয়েছে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অন্যান্য ভারি খাবার বা ডেজার্ট খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে বা কমিয়ে দিতে ফলকে বিভিন্ন সুস্বাদু এবং সৃজনশীল উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আরো ফল যোগ করার একটি ভালো উপায় হলো একে শুকনো ফলে পরিণত করা।

শুকনো ফল কী পুষ্টিকর?
ফলের পানি শুকিয়ে একে শুকনো ফলে পরিণত করা হয়। এতে ফলে থাকা ফাইবার, ভিটামিন,  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ অন্যান্য পুষ্টি ও ক্যালোরিতে ঘনত্ব আসে। শুকনো ফল বেশি ক্যালোরি সমৃদ্ধ। তাই এটি কম খাওয়া উচিত। এমনকি শুকানোর পরও এতে পুষ্টির মান অক্ষুণ্ন থাকে। উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ফল শুকানো হলে এর পুষ্টি কিছু কমে গেলেও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী তা যথেষ্ট পুষ্টিকর। 

তবে শুকনো ফলের বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যাবে যদি আপনি এটি বাড়িতে প্রস্তুত করেন। স্টোর থেকে কেনা শুকনো ফলে চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকতে পারে। তাছাড়া এতে মেশানো থাকতে পারে কৃত্রিম রং ও স্বাদ যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

বিভিন্ন উপায়ে আপনি শুকনো ফল খেতে পারেন:

১। ফাইবার সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু করতে শুকনো ফল আপনি সকালে খাবারে যোগ করতে পারেন। কিশমিশ, বেরি ফল এবং ব্লাক বেরির মতো শুকনো ফলকে নিতে পারেন মিষ্টি স্বাদহীন ওটমিল এবং সকালের এ ধরনের খাবারের সঙ্গে। 

২। খাবারগুলো আরো ফাইবার সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু করতে কুকিজ, কেক এবং পিঠার সঙ্গে খেতে পারেন শুকনো ফল। শুকনো ফল স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশিই মিষ্টি হয়। তাই প্রক্রিয়াজাত বা সাদা চিনির পরিবর্তে বেইকড খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন শুকনো ফল। 

৩। পুষ্টি বাড়াতে দুধের সর ও স্মুদিতে শুকনো ফল যোগ করুন। এতে খাবার সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত হবে। শুকনো ফল দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ও পানীয়র প্রাকৃতিক সহযোগী।

৪। সুগন্ধী চাল কিংবা চালের গুঁড়োর তৈরি খাবারকে আরো মজাদার করতে এর সঙ্গে শুকনো ফল যোগ করতে পারেন। বিরিয়ানি এবং পোলাওয়ে মেশাতে পারেন বাদাম এবং শুকনো ফল। এটি মিষ্টি জাতীয় উপাদানের বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে।

৫। শুকনো ফল দীর্ঘদিন ধরে ভালো থাকে। এটি মাংসের স্টাফিংস তৈরির কাজেও ব্যবহার করতে পারেন।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন শুকনো ফল :

সব ফলই শুকনো ফলে পরিণত করা যাবে না। জলীয় উপাদান নেই এমন ফল এ জন্য উপযুক্ত নয়। ঘরে সহজে শুকানো যায় এমন কয়েকটি সাধারণ ফলের মধ্যে রয়েছে আপেল, কলা, খেজুর, ডুমুর, বাদাম, আনারস, বেরি, আম, ইত্যাদি।

বাড়িতে ফল শুকানোর জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে:

১। প্রথমে ফলটির পাতা ও ডাঁটা ছাড়িয়ে নিতে হবে।

২।  পরিষ্কার পানি দিয়ে ফলটি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় হাতের আঙুল দিয়ে ঘষে ঘষে ময়লা তুলে ফেলুন। এবার পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ভালো করে মুঁছে ফেলুন।

৩। ফলের বীজ বের করে ফেলুন এবং নিশ্চিত করুন যে এতে আর কোনো অবাঞ্ছিত উপাদান নেই। কিশমিশের মতো ছোট ফলকে ছিদ্রযুক্ত করুন। আর বড় ফলগুলো গোলাকার করে কাটুন। এবার এটি ডিহাইড্রেটর, ওভেন এমনকি বাইরে রোদে শুকাতে পারেন। এরপর তা সংরক্ষণ করুন বৈয়াম বা বায়ুরোধী পাত্রে। 

সূত্র : এনডিটিভি 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা