kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

হাতটা ধরো বন্ধু

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাতটা ধরো বন্ধু

রমার খুব হাত ঘামায়। ওর হরমোনে কী যেন সমস্যা। দুই-একবার হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়েছিল। কোর্স আর শেষ করা হয়নি। পরীক্ষার হলে কী যে বিপদে পড়া লাগে, বলার মতো নয়! দুটি রুমাল নেওয়া লাগে। তার পরও ওর হাত ধরে হাঁটার স্বভাবটা যায়নি। ওর কাছের বান্ধবীদের অভ্যাস হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকে রমার এই ব্যাপারটার সঙ্গে তারা পরিচিত। বাইরে বের হলেই সে সবার আগে খপ করে হাত ধরে ফেলবে! বান্ধবীরা বকাবকি করতে থাকবে, বলবে, ‘হাত মোছ, হাত ছাড়’। তা-ও সে নাছোড়। আর হাত ধরতে না দিলে পিচঢালা সুন্দর রাস্তায় ব্যালান্স হারিয়ে কাল্পনিক কোনো ইটের সঙ্গে হোঁচট খাবে!

এ কারণে আজকে রমার চরম বিপদ হয়েছে। আজকে এই প্রথম হাসানের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়েছে। দুই দিনের নতুন বউ, তাই মা শাড়ি পরিয়ে দিয়েছেন। ব্যস! হিল জুতা পায়ে দিয়ে টুকুশ টুকুশ করে হাঁটা লাগছে, চট করে হাসানের হাতটা ধরে ফেলতে পারছে না!

সংসদ ভবনের রাস্তাটা সুন্দর। চওড়া ফুটপাত ধরে অনেকক্ষণ হাঁটা যায়। দুই পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো সাধারণ রাস্তাটাকে অসাধারণ করে তুলেছে! হাঁটতে বেশ ভালো লাগছে। হাসান খুব কথা বলে। দাবা খেলে পরপর তিনবার কলেজের স্যারকে হারিয়ে দিয়েছে। মিসর দেখার তার খুব শখ। পাস্তা, পিজ্জা—এসব ভালো লাগে না! কথার বিষয়—উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে দৌড় দিচ্ছে! আর রমা গিলে যাচ্ছে। একটু পরপর শাড়ির এখানটায়-ওখানটায় ভাঁজ ঠিক করছে।

এভাবে কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটু বসতে ইচ্ছা হয়। বাদাম আর হাওয়াই মিঠাই কিনে ফুটপাতে বসে গেল দুজন। গোলাপি হাওয়াই মিঠাই কেনাটা খুব ভুল হয়েছে! দাঁত, জিব গোলাপি হয়ে যাচ্ছে। এই ইস্যুতে হাসাহাসি করে আরেকটু হলে আশপাশে মানুষ জমিয়ে ফেলত দুজন! তারপর ‘আমি যা দেখি, তুমি তা দেখো?’ খেলে প্রায় অনেকটা সময় পার হয়ে গেল। গল্প করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। আধা সন্ধ্যা যাকে বলে। একবার বসলে সহজে আর উঠতে ইচ্ছা হয় না। আবার বাসায় ফেরাও দরকার। তাই মনে হয় আশপাশ থেকে প্রচুর মশা কামড় দিয়ে ওদের অটোমেটিক পদ্ধতিতে বাড়িমুখো করে দিল!

রাস্তায় জ্যাম। অনেকটা সময় দাঁড়িয়েও বাসে ওঠা যাচ্ছে না। একবার এদিক, আরেকবার সেদিক গিয়ে বাসে উঠতে চেষ্টা করতে হচ্ছে। এদিকে রাতের বেলায় ছোট চাচির বাসায় দাওয়াত। বিয়ের পর এটাই প্রথম দাওয়াত। তৈরি হতেও সময় লাগবে। আসলে এত বেশি সময় এখানে দেওয়া উচিত হয়নি। মা জোর করে পাঠিয়েছিলেন, এবার মা বকবেন!

প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর হুট করে একটা বাস পাওয়া গেল। একেবারে খালি বাস। পুরোপুরি থামছে না। একটু একটু চলছে। এর মধ্যেই দুনিয়ার সব লোক বাসে উঠে গেল। হাসান একা হলে পারত। রমা থাকায় পারছে না। বাসটা একেবারে ভরে যাওয়ার আগে হাসান উঠে পড়ল। সে রমাকে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে রেখেছে ওর পিছে পিছে উঠে পড়তে। রমা তাও একটু ভড়কে গেল। ‘হাসান’ বলে ডাক দিতেই হাসান পিছে ফিরল। রমা চট করে ওর হাত ধরতেই কিছু একটা হলো! হাসান ছ্যাত করে রমার হাতটা সরিয়ে দিল!

পেছনে কন্ডাকটর থাকায় এ বেলায় আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তা না হলে আজকে রমার কপালে কি যে ছিল! দুজন যাত্রী উঠে ওদের বসার জায়গা করে দিল। সেই যে রমা কেঁদে যাচ্ছে, আর থামানোই যাচ্ছে না। আশপাশের সবাই গল্প করার একটা টপিক পেয়ে গেছে। হাসান স্যরি বলতেও পারছে না। চোরা চোরা চোখ করে বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। বাসায় ঢোকার আগেই সমাধান করা দরকার। হাসান কিছু একটা বলতে চায়।

‘একটা কথা বলি? জাস্ট একটা কথা?’

উত্তর নাই। কান্নার শব্দ আসছে।

‘একটু এদিকে তাকাও। প্লিজ...’

রমা মুখ ফেরাল। চোখ নিচে নামানো।

‘আমি কখনোই কারো হাত ধরি না। আমার খুব হাত ঘামায়। মানুষ সাধারণত খুব বিরক্ত হয় ভেজা হাতে হাত ধরলে। তাই মনেও ছিল না কি অবস্থায় আছি। স্যরি। প্লিজ, মাফ করো।’

ফিক করে না হেসে দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছে রমা। হাসান স্যরি বলতে থাকুক। শুনতে সুন্দর লাগছে!

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা