kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রূপবদল

নীপা হয়ে উঠলেন রাধা

নৃত্যাঞ্চলের ব্যয়বহুল প্রযোজনা মীরা। সম্প্রতি এর প্রথম প্রদর্শনী হলো। এতে রাধা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন শামীম আরা নীপা। প্রীতি প্রাপ্তিকে নিজের রাধা হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীপা হয়ে উঠলেন রাধা

আগে আমি ‘ব্রজগোপী খেলে হরি’ বা ‘রাইকৃষ্ণ পদাবলী’তেও রাধা করেছি। সেগুলোয় রাধা ছিলেন দেবী। তাঁর সঙ্গে পার্থিব জগতের বেশি যোগ ছিল না। কিন্তু মীরার রাধা একেবারেই রক্ত-মাংসের মানুষ। এই রাধা ঘোষবাড়ির বউ। আয়ান ঘোষের সহধর্মিণী। সে সারা দিন ঘরকন্নায় ব্যস্ত থাকে। দুধ দিয়ে মাখন বানিয়ে অন্য গোপিনীদের সঙ্গে বিক্রি করতে বাজারে যায়। আর এর মধ্যেই সে কৃষ্ণের প্রেমে পড়ে। সাদা চোখে এটিকে মানব-মানবীর প্রেম বলেই মনে হয়। রাধাকে কলঙ্কিত করা হয়।

চরিত্রটি করতে গিয়ে আমাকে অনেক বেশি অনুশীলন করতে হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম মীরা যেন বিশ্বমানের হয়। এর নৃত্যপরিচালক সুকল্যাণ ভট্টাচার্য গুণী মানুষ। কোথাও এতটুকু ছাড় দিতে রাজি নন। এখনকার অনেক প্রযোজনায় পোশাক, সাজসজ্জা ও আলোয় বাহুল্য দেখা যায়। ফলে নাচে খামতি তৈরি হয়; কিন্তু আমরা এখানে কোনো ছাড় দিইনি। ফলে যাঁরা প্রযোজনাটি দেখেছেন, তাঁরা খুব প্রশংসা করেছেন।

 

সাজ পোশাক

আগেই বলেছি, আমরা নাচটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসাবে আমরা বড় সেট বা প্রচুর পোশাক ব্যবহার করিনি। যেমন আমার সঙ্গে যেসব গোপিনী ছিল, তাদের সাধারণত ঘাগরা পরানোর চল; কিন্তু আমরা তাদের দিয়েছি একেবারেই হালকা রঙের সুতি কাপড়ের ধুতি আর ওড়না। আমিও তেমন কোনো চাকচিক্যময় পোশাক পরিনি। কারণ আমার চরিত্রটি সারা দিন গৃহকাজে ব্যস্ত থাকে। তবে সে আবার একেবারেই দরিদ্র পরিবারের কুলবধূ নয়। তাই বিয়ের দৃশ্যে আমি গোলাপি কাতানের ঘাগরা পরেছি। অবশ্য কয়েকটি ঘরকন্নার কাজেও আমাকে ওই পোশাকে দেখা গেছে। এর কারণ একটি নতুন বউ কি এক দিনেই তার আবেদন হারিয়ে ফেলে? না। কিছুদিন সময় লাগে তাকে একেবারে সাদামাটা হতে। যা হোক, আমার পরনের আরেকটি পোশাক ছিল উজ্জ্বল নীল-সোনালি কাতানের। এই পোশাকটি দিয়ে প্রতীকী অর্থে  কৃষ্ণের জন্য প্রতীক্ষা বা কৃষ্ণ হারানোর ব্যথা বোঝাতে চেয়েছি। দুঃখের সঙ্গে নীল রঙের একটি সম্পর্ক তো আছেই।

পুরো নৃত্যনাট্যে আমার শুধু এক সেট গয়না ছিল। গয়নাগুলো ভারতের রাজস্থান থেকে এনেছি। কারণ আমরা যে গল্প বুনেছি তা ওই অঞ্চলেরই। সিঁথিতে ছিল রাজস্থানি টিকলি, কানে বড় ঝুমকো, নাকে বড় আকৃতির গোলাকার নাকফুল, চুলের বেণিতে পাশা আকৃতির রাজস্থানের লোকজ গয়না, গলায় বড় একটি গোল্ড প্লেটের হার ও একটি সরু চেইন, হাতে শাখা, আংটি ও ব্রেসলেট। আর কোমরে ছিল সোনালি বিছা। মেকআপে কোনো বাহুল্যই নেই। তবে যে বিশেষত্ব রয়েছে তা হলো—লাল টিপের চারদিকে চন্দনের আল্পনা। এটি রাধার সাজের একটি বিশেষ দিক। তার দিকে তাকালেই তা চোখে পড়ে, মুহূর্তেই তার ব্যক্তিত্ব ও প্রেয়সী মনের পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রপস বলতে শুধু দুটি হাঁড়ি। স্টিলের হাঁড়িতে রাজস্থানি মোটিফের বর্ণিল নকশা করা। এই হাঁড়ি দুটি প্রায় সময় আমার হাতে থাকে। পানি আনতে বা মাখন বিক্রি বোঝাতে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

 

মীরার কাহিনি

মীরার কাহিনি শুরু হয় কংস রাজের কারাগারে বন্দি দেবকীকে দিয়ে। তাঁর কোলই আলো করেন কৃষ্ণ।  নারায়ণ এলেন কৃষ্ণরূপে। লক্ষ্মী কি আর একা থাকবেন? তাই তিনিও এলেন রাধারূপে। ভক্ত আয়ান ঘোষ লক্ষ্মীকে বরণ করে নিলেন আপন ঘরে। রাধার বিয়ে হলো আয়ান ঘোষের সঙ্গে ঠিকই—কিন্তু কথাই তো ছিল রাধারূপী লক্ষ্মী শুধু কৃষ্ণপ্রেম বিলাসিনী হয়েই থাকবেন। প্রেম ছড়াবেন। তা ছড়াচ্ছেন যুগ যুগ ধরে। সম্রাট আকবরের আমলের একজন রাধা যেমন মীরাবাঈ। প্রেম ছড়িয়ে অমর হয়ে আছেন।

মন্তব্য