kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

আপনি আমার ছোট বোনের মতো

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিতর্ক সেক্টরে পদচারণ প্রায় ৯ বছর। সেই সুবাধে মানুষ বিতার্কিক হিসেবেই চেনে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই বিচারক হিসেবে। তেমনই গত মাসে একটি কলেজে গিয়েছিলাম ইন্টারডিপার্টমেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে।

কক্ষে প্রবেশ করেই দেখলাম বিতার্কিকরাসহ গোটা বিশেক দর্শক বসা। বিতর্ক শুরু করতে বললাম। পক্ষ দলের প্রথম বক্তা খুব ভালো বক্তব্য দিচ্ছিল। তার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম। পাঁচ মিনিট পর বেল দিলে সংবিৎ ফিরে ফেলাম। দেখি দর্শকরা সবাই আমার দিকে তাকিয়ে মিট মিট করে হাসছে। বুঝলাম বক্তা ছিলেন একজন মেয়ে। আমি তার দিকে তাকিয়ে শুনেছিলাম বলে দর্শকরা ব্যাপারটাকে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। যাইহোক পরিস্থিতি সামলে প্রথম সেশনটা শেষ করলাম। বাসায় এসে ফেসবুক খুলে দেখি ওই মেয়েটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। একসেপ্ট করার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার মেসেজ—‘ভাইয়া, আপনি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেন?’

আমি বললাম, ‘আমি আসলে আপনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম না, আপনার বক্তব্য শুনছিলাম।’

মেয়েটা নাছোড়বান্দা। তার যুক্তি যেহেতু বক্তব্য মানুষ কান দিয়ে শোনে, তাহলে আমি কেন তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কারণটা তাকে বলাই লাগবে। বুঝলাম, যুক্তি দিয়ে তাকে হারানো যাবে না। অন্য পথ ধরতে হবে। বললাম, ‘আসলে আপু, আপনার চেহারাটা ঠিক আমার ছোট বোনটার মতো, অবিকল। তাই তাকিয়ে ছিলাম। এখন থেকে আপনিও আমার ছোট বোন।’

এটাই তাকে পাঠানো শেষ মেসেজ। মনে হয় জুতসই জবাব পেয়ে গেছে। ফলে মেয়েটাও আর কখনো মেসেজ পাঠায়নি। সে দিনের শিক্ষা নিয়ে এর পর থেকে আর কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে বিচারকার্য সম্পাদন করিনি, বিতার্কিক যত ভালোই হোক না কেন।

আল সানি

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা