kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

এই বেঁচে থাকা ভালো লাগে না

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এই বেঁচে থাকা ভালো লাগে না

দুপুরের রান্না শেষে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা হেলিয়েছি মাত্র, অমনি জানালার ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ। কিছুক্ষণ খেয়াল করে বুঝতে পারলাম খুব সম্ভবত কেউ মায়ের সঙ্গে কথা বলছে।

—তোমার মেয়েকে সুখে দেখতে চাইলে কালই গরমের ফল পাঠিয়ে দিয়ো। আম, কাঁঠাল, তরমুজ—সব রকম ফল। একটাও বাদ দিয়ো না যেন।

ওপাশ থেকে কী বলেছে শুনতে পাইনি। এটুকু বুঝতে পারছিলাম মেয়েটির চাপা কান্নার স্বরে কলিজা ছিঁড়ে খান খান হয়ে যাচ্ছিল কোনো এক মায়ের।

—কী বলেছি শুনতে পেয়েছ মা! যে বাড়িতে মেয়ে দিয়েছ, সে বাড়ির রীতি মতো সময়ে সময়ে সব পাঠিয়ে দিয়ো। তাহলে আর কখনো জিজ্ঞেস করতে হবে না—‘তুই ভালো আছিস তো মা?’ তুমি জিজ্ঞেস করার আগেই জানতে পারবে আমি ভালো আছি।

কথাটা বলেই ফোনটা রেখে দিল মনে হয়। এতক্ষণ যে কান্না চাপা ছিল এখন তা পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেউ অবিরাম কেঁদে চলেছে। হঠাৎ হঠাৎ এমনও মনে হচ্ছিল কাঁদতে কাঁদতে না জানি মেয়েটা আজ মরেই যাবে।

আমার মনে হয়েছিল, এভাবে মরে মরে বেঁচে থাকার চেয়ে মেয়েটির মরে যাওয়াই ভালো। তাহলে হয়তো একটা পরিবারের আর্থিক মৃত্যু হবে না। একটা হৃদয়হারা মেয়ের আকুতি শুনতে হবে না।

সোহানা পাহরিন

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি

মন্তব্য