kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিশাল বাংলা

খাসি পান

কুলাউড়ার পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় ৩১টি পানপুঞ্জি রয়েছে। খাসিয়া জনগোষ্ঠী এগুলো আবাদ করে। এখানকার রবিরবাজার পানের জন্যই বিখ্যাত। মাহফুজ শাকিল দেখে এসেছেন

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাসি পান

জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পানচাষের ভালো মৌসুম। চারা রোপণের এক বছর পর থেকে পান উৎপাদন শুরু হয়। তিন বছর পর্যন্ত একই গাছ থেকে পান পাওয়া যায়। সাধারণত সুপারিগাছে পানগাছগুলো লতিয়ে দেওয়া হয়। খাসিয়া পুরুষরা মূলত এগুলো পরিচর্যা করেন। বছরে একবার গাছের ডালপালা ও পাতা ছাঁটা হয়।

খাসিয়ারা  লু-উ নামে এক ধরনের বাঁশের মই দিয়ে পান তুলে থাকে। সঙ্গে পান সংগ্রহ করার জন্য ঝুড়ি রাখে। হাতে রাখে দা। নাম টাখলি।

সংগৃহীত পান জুম থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন খাসিয়া পুরুষরা। আর খাসিয়া নারীরা ঘরে বসে পান গুছিয়ে বিক্রি করেন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পান তোলার ভরা মৌসুম। 

 

পুঞ্জিগুলো যেমন হয়

পুঞ্জিগুলোতে একসঙ্গে বেশ কিছু পরিবার বাস করে। খাসিয়া সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। বংশ পরিচয় হয় মাতৃসূত্রে। কোনো কোনো পরিবারের একাধিক মানে চার-পাঁচটি জুম আছে। তবে বেশির ভাগেরই আছে একটি অথবা দুটি জুম। একেকটি জুমে এক থেকে পাঁচ হাজার পানের চারা থাকে। খাসিয়ারা ঐতিহ্যবাহী নিয়মেই পানের চাষ করে থাকে।

 

পানচাষে আয়

সপ্তাহের প্রতি সোম ও শুক্রবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পান সংগ্রহের কাজ চলে। পান গুছি (গুছিয়ে রাখা) করার সময় রবিরবাজার থেকে পাইকাররা আসেন পান কিনতে। ১২টি পান পাতায় এক গুছি ও ১২টি গুছিতে এক মোঠা আর ২০ মোঠায় হয় এক কুড়ি। ২০ মোঠা নতুন পানের দাম এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। আর খাসিয়া পুরান পান ২০ মোঠার দাম সাত হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার ৫০০ টাকা।

 

পানের বাজার

রবিরবাজারে তিনটি মার্কেটে ছোট-বড় প্রায় ৬০টি পানের আড়ত রয়েছে। মহাজন আছেন ১২০ থেকে ১৩০ জন। এসব আড়তে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা পান কিনতে আসেন। বাজারজাত করেন দেশের নানা জায়গায়। পূর্ব রবিরবাজার পান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি এলাইছ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মিয়া জানান, প্রতিদিন রবিরবাজার থেকে ৪৫-৫০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। কোনো কোনো আড়তে দিনে পাঁচ লাখ টাকার পানও বিক্রি হয়।

ছবি : লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা