kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্ব বিচিত্রা

নটর ডেম ৯

প্যারিসের নটর ডেম গির্জা বানাতে লেগেছে প্রায় দুই শ বছর। ১২ থেকে ১৪ শতক। শত শত বছরের ইতিহাস গাথা এর পাথরগুলোয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় ভালো ধকল পোহাতে হয়েছিল। ১৫ এপ্রিল এতে আগুন লাগায় কেঁদেছে বিশ্ববাসী। মেন্টাল ফ্লস থেকে এ রকম জানা ৯টি খবর তাহসীন চোকদার বাংলা করেছেন

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নটর ডেম ৯

নটর ডেমের নিচে একটি পৌত্তলিক শহর শুয়ে আছে

লুটেশিয়া নাম ছিল রোমান শহরটির। গির্জাটি একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে উঠেছে। ১৭১০ সালের খোঁড়াখুঁড়িতে দেবতা জুপিটারকে নিবেদিত অর্ঘ্যের নমুনা পাওয়া গেছে। তারপর ১৯৬০ ও ৭০ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে আরো প্রমাণ মিলেছে। তাই গবেষকরা বলেন, নটর ডেম গড়ে উঠেছে একটি পৌত্তলিক শহরের ওপর।

 

ভেঙে নতুন করে বানানো

রোমান পৌত্তলিক মন্দিরের নজির মেলে গির্জার পশ্চিম দিকে। তিনটি প্রবেশদ্বারের সবগুলোতে খ্রিস্ট সাধুদের মূর্তি আছে। সাধু অ্যানের নামে যে প্রবেশদ্বার আছে তার মূর্তিগুলো অন্য দুটির তুলনায় বেমানান, শিশু কোলে মেরির মূর্তিটির কথা বিশেষ করে বলা হয়। ১৯৬৯ সালের এক গবেষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে পুরনো মন্দিরের অবশেষ থেকেই নতুন করে মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে।

 

গির্জার ছাদে একটি জঙ্গল পোরা

প্যারিসের সবচেয়ে পুরনো কাঠের হদিস মিলবে নটর ডেমের ছাদে। ১২ শতকে প্রায় ৫২ একর জমির গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল, যার বেশির ভাগ গির্জার ছাদের কড়িকাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।    

২৮ জন রাজার মাথা উড়ে গেছে

বাইবেলে বর্ণিত ২৮ জন রাজার প্রতিমূর্তি ছিল গির্জায়। ১৭৯৩ সালে বিপ্লবীরা ওই রাজাদের মাথাগুলো নামিয়ে দেয়। মাথাগুলো গির্জার বেজমেন্টে পড়েছিল প্রায় দেড় শ বছর। ১৯৭৭ সালে ২১টি মাথা খুঁজে পাওয়া যায়। সেগুলো এখন জাদুঘরে (মিউজি ডি ক্লুনি) সংরক্ষিত আছে।

 

ঘণ্টাগুলো একবার গলিয়ে ফেলা হয়েছিল

ফরাসি বিপ্লবের সময়ের ঘটনা। মোট ২০টি ঘণ্টা (শুধু এমানুয়েল নামের বিশেষ ঘণ্টাটি ছাড়া) কামান বানাতে গিয়ে বিপ্লবীরা গলিয়ে ফেলেছিল। এ দুর্ভোগ শুধু নটর ডেমকেই নয়, পুরো ফ্রান্সের সব গির্জাকেই পোহাতে হয়েছিল। উনিশ শতকে আবার ঘণ্টাগুলো নতুন করে বানানো হয়েছিল। তবে গবেষকরা আফসোস করেন আগেরগুলোর মতো ভালো হয়নি একটিও। শেষে ২০১৩ সালে আবার সব ঘণ্টা বানানো হয়, যেগুলো আগেরগুলোর অনেকটাই কাছাকাছি।

 

নেপোলিয়ন আর ভিক্টর হুগো বাঁচালেন

১৮০৪ সালের কথা। নেপোলিয়ন তাঁর গদিনশিন হওয়ার অভিষেক অনুষ্ঠান করতে চাইলেন নটর ডেম গির্জার ভেতর। তখন চারদিকে সাড়া পড়ে গেল। নটর ডেমকে আবার সুসজ্জিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হলো। অথচ তার আগের বেশ কয়েক বছর গির্জাটি একটি গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিপ্লবীদের (ফরাসি বিপ্লবের) তাণ্ডবও কম সইতে হয়নি। গির্জাটির প্রতি বিশ্ব আরো গভীরভাবে নজর দেয় ১৮৩১ সালে। ভিক্টর হুগো নটর ডেম ডি প্যারিস (নটর ডেমের কুঁজো নামে অনূদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়) নামের একটি বই লিখেছিলেন ওই বছর। বইটির বদৌলতে বলা যায়, গির্জাটি পুরো সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। দায়িত্ব পান স্থপতি জঁ বাপ্তিস্ত আঁতোয়ান ও ইউজিন ভিয়োলে লো দুক।

 

গির্জার দৈত্যরা মধ্যযুগীয় নয়

নটর ডেমের অন্যতম আকর্ষণ এর উদ্ভট প্রাণীগুলো। একাধিক প্রাণীর (যেমন—শরীর বানরের; কিন্তু মুখ বাদুড়ের) অবয়ব মিলিয়ে এগুলো তৈরি। এগুলো গার্গিওল নামে বেশি পরিচিত। ভবনের পানি নিষ্কাশনের জন্য পশুর আকারে পাথর দিয়ে তৈরি চোঙকে বলে গার্গিওল। এগুলো কিন্তু ১২ বা ১৩ শতকে তৈরি হয়নি। ১৮৪৩ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যে এগুলো নির্মিত। স্থপতি ইউজিন তত্ত্বাবধান করেছিলেন। মূলত হুগো এগুলোর কল্পনা করেছিলেন আর ইউজিন তার বাস্তবায়ন করেছিলেন।  

 

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অর্গান

নটর ডেম অর্গানে (বাদ্যযন্ত্র) প্রায় আট হাজার পাইপ আছে। এর কোনো কোনোটি আঠারো শতকের। পাঁচটি কি-বোর্ড লাগে সবগুলো বাজাতে। এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় পাইপ অর্গান। অর্গানের কিছু অংশ ফরাসি বিপ্লবের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০১৩ সালে ৮৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেগুলো সংস্কার করা হয়।

 

ছাদে সত্যিকারের মৌচাক আছে

গির্জার ছাদে ছোট ছোট মৌচাক আছে কয়েকটি। নিকোলাস জিয়ঁ এগুলোর দেখভাল করেন। ক্ষুধার্তদের এখান থেকে মধু বিতরণ করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে মৌমাছিরা এখানে বাসা বাধে। পরের দিনগুলোয় এগুলো ভক্তদের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। সিএনএন খবর দিয়েছে ১৫ এপ্রিলের আগুন থেকে বেঁচে গেছে মৌচাক ও মৌমাছিগুলো। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা