kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

ফুচকা বিলাস

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাফসানকে প্রায়ই বলি ফুচকা এনে দিতে। এই বলাটাকে আমি এতটাই ডাল-ভাত করে ফেলেছি যে খুব সম্ভবত আমার ফুচকা-অনুরোধ ভদ্রলোকের কানে পৌঁছানোর অনেক আগেই অন্য কোথাও ধাক্কা খেয়ে আমার কাছে ফিরে আসে! তাই আমি আজ বদ্ধপরিকর। দুপুরের পর রাফসানকে আর দোকানে যেতে দিইনি। জোর করে দরজায় তালা আটকে রেখেছিলাম। বোঝাই যাচ্ছে সে ত্যাক্ত হয়েছে। তার কত ছুতো! কর্মচারীরা নাকি গুলিয়ে ফেলে। মিস্টার রাফসানকে ছাড়া নাকি সমস্যা হয়! হোক সমস্যা। এক জীবনে সমস্যার দরকার আছে। পৃথিবীর সব সিস্টেমের মতো সমস্যা আর সুবিধারাও সাম্যাবস্থায় থাকতে চায়!

তাই ফুচকা খাওয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের বর্তমান অবস্থান সরকারি কোয়ার্টারে। রাফসানের শার্টের হাতা ধরে হাঁটতে আমার ভালো লাগে। সরকারি কোয়ার্টারগুলোতে একটা চার্ম আছে। কেমন যেন খুব আন্তরিক মনে হয়। বাসাগুলো খুব সেকেলে, টাইলস নেই, সুন্দর ডিস্টেম্পার নেই! তবু অগণিত গাছপালা থাকার কারণে অন্য রকম একটা আভিজাত্য আছে। কিছু ছেলেমেয়ে দাপিয়ে সাইকেল চালাচ্ছে। আন্টিরা ‘দৌড় হইয়াও হইল না দৌড়’ ভঙ্গিতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। ডায়াবেটিস কেইস!

আমরা যখন ফুচকা মামার গাড়ির সামনে চেয়ার পেতে বসেছি, তখন বিকেল। এখানকার পকেট গেটের মামাটা বেশ ভালো ফুচকা বানাতে জানেন। তা ছাড়া তাঁর মার্কেটিং সেন্স খুব ভালো। হাতের গ্লাভস আর চটপটির বাটিতে ধনেপাতা-পুদিনাপাতা কুচি দেওয়ার ব্যাপারটা তাঁকে কয়েক গুণ বেশি কাস্টমার এনে দিয়েছে। আর ফুচকায় তিনি এক ধরনের অসাধারণ চাট মসলা দেন। মসলার রেসিপি জানতে চাইলে মুচকি হাসি দিয়ে ঠকঠক শব্দ করে ঘুগনি নাড়েন! নিজের আবিষ্কারের পেটেন্ট তিনি কাউকে দিতে চান না!

ঝাল আমরা খেতে পারি না। তবে অনেকে দেখছি কয়েকবার করে ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছে অনেক বেশি ঝাল দেওয়ার জন্য। তাদের দেখে মনে হলো ভয়ানক ঝাল করে ফুচকা খাওয়া একটা অ্যাডভেঞ্চার। ক্ষতি কী একবার চেখে দেখতে! আমরাও খুব ঝাল দিতে বললাম এবং খাওয়ার সময় ঝাল কাকে বলে বুঝে গেলাম। চোখ-নাক দিয়ে পানি ঝরে যাচ্ছে—আমার অবস্থা দেখে রাফসান হেসেই কুটিকুটি! হুহ, আর কথাই বলব না!

অন্ধকার হওয়ার আগে বাড়ি ফেরা লাগবে। আর দেরি না করে উঠে পড়েছি। এবার মেইন রোড দিয়ে হাঁটছি বিশেষ একটা দৃশ্য দেখব বলে। শহরের সন্ধ্যাগুলো কত ব্যস্ত! সবার কত তাড়া! ফুটপাতটারও নিস্তার নেই। ছোট ছোট গাড়িতে করে কত রকমের খাবার বিক্রি হচ্ছে। এমন সময় হুট করে রাস্তার কমলা বাতিগুলো একযোগে জ্বলে উঠল! মনে হলো, সন্ধ্যার আকাশটার গায়ে যেন গয়না জড়িয়ে দেওয়া হলো। রাফসানের হাতের পাতায় টোকা দিয়ে দেখালাম আমার অসম্ভব প্রিয় দৃশ্যের একটি! সে কতটা বিমোহিত হয়েছে বলতে পারছি না, তবে আমার ভালোলাগা যে দ্বিগুণ হয়েছে এটা নিশ্চিত!

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা

মন্তব্য