kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

রাতের অতিথি

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাতের বাসেই উঠে পড়লাম। খুলনা থেকে দ্রুত ঢাকা ফিরতে হবে। তবে এ বছর খুলনা থেকে এক বড় কৃতজ্ঞতা বোধের তৃপ্তি নিয়ে ঢাকা ফিরছি। কয়েক দিন আগে খুলনা এসেছি। উদ্দেশ্য কুয়েট টেক্সটাইল ফেস্টে ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করা। ঢাকা থেকে আমি আর ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র রাকীব রওনা দিলাম দুপুরে। কুয়েটে যখন পৌঁছলাম তখন রাত ১১টা। রাতের খাবার সেরে আয়োজকদের কল দিলাম কোথায় থাকব জানার জন্য। তাঁরা এসে বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে গেলেন। রাকীব তখন বলল, ‘ভাই, আমার কাজিন আছে কুয়েটে। তার হলেও থাকা যাবে।’ এমনিতেই খুলনায় খুব গরম পড়ছে। থাকার জায়গা একটু ভালো হলে মন্দ হয় না। তাই রাকীবকে বললাম, ‘আসতে বলো তাঁকে।’ তিনি যখন এলেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলে মনটা কেমন যেন ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এতটা অমায়িক ব্যবহার অনেক দিন পাইনি। যা হোক, তাঁর সঙ্গে গেলাম খানজাহান হলে। হলের অন্যান্য রুমের চেয়ে তাঁর রুম ছিল অনেক পরিপাটি। রুমে চার বেডের তিনটি আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন ফাঁকা করে, যদিও আমরা ছিলাম দুজন।

যা হোক ফ্রেশ হয়ে ঘুমানোর পালা। তিনি অনেকবার বললেন মশারি টানিয়ে দেবে কি না। বললাম, ঢাকার মশাই রক্ত খেতে পারে না, এ মশাগুলো আমার রক্ত খাবে কিভাবে? আমি এভাবেই থাকতে পারব। রাতে ঘুমানোর জন্য যখন বাতি বন্ধ করে দিলাম, তখন বুঝলাম এই মশা এতটা সাধারণ নয়। আমার গাল-মুখ-পা যেখানে পাচ্ছে হুল ফোটাচ্ছে।  তখন অনেক রাত। এদিকে আমার ঘুম আসছে না, আবার লজ্জায় মশারিও টানাতে পারছি না। মাঝরাতে রাকীবের কাজিন ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। তিনি কিছু না বলেই নিজের হাতে মশারি টানিয়ে দেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ আরো বেড়ে গেল। সে রাতে অনেক শান্তিতেই ঘুমিয়েছিলাম। ব্যাপারটা সবার কাছে অতি সাধারণ লাগতে পারে; কিন্তু এই যে মমতামাখা কেয়ার, এটা অতি সহজে পাওয়া যায় না এ যুগে।

মনে হচ্ছিল তাঁকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে আসি। না, সেটা অবশ্য পারিনি। কিন্তু এই মানুষটা আজীবন মনে শ্রদ্ধার জায়গাটি দখল করেই থাকবে।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য